Sunday, June 16, 2013

বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক আঙুর চাষ


 জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা রুহুল ইসলাম  ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলের প্রধান প্রকৌশলী। ৪ বছর আগে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশের মিলডোয়ায় এক আঙুর খামার মালিকের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। জয়পুরহাট জেলার ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া ও মাটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে অস্ট্রেলিয়ার সেই খামারির পরামর্শে ২০০৯ সালে বীজহীন দুই জাতের এক হাজার আঙুরের চারা অস্ট্রেলিয়া থেকে আনান। এই চারার মধ্যে মেনিনডি ও ক্রিমসন সিডলেস জাত রয়েছে। তিনি তার ৬ বিঘা জমির উপরি ভাগের মাটি কেটে তুলে ফেলে ২ ফুট বালু ও মুরগির বিষ্ঠা মিশিয়ে আঙুর চাষের উপযোগী করে জমি তৈরি করেন। বিদেশ থেকে আনা ওই চারাগুলো থেকে তিনি আরও ২২৫টি চারা তৈরি করে মোট এক হাজার দুইশ' চারা তার জমিতে লাগান। আরসিসি খুঁটি ও জিআই তার দিয়ে তৈরি করেন জাংলা। অস্ট্রেলিয়ার ওই খামারির পরামর্শে তিনি তার আঙুরের বাগান পরিচর্যা করতে থাকেন। বাগান পরিচর্যার জন্য সার্বক্ষণিক ৬ জন কাজ করছে। রোগবালাই তেমন না থাকলেও পাখির হাত থেকে রক্ষার জন্য পলিথিনের ব্যাগ দিয়ে আঙুরের থোকা ঢেকে দিতে হয়। ১ বছর ৮ মাস পর রুহুল ইসলামের এই বিশাল বাগানের ৫শ' গাছে এখন থোকা থোকা মিষ্টি আঙুর ঝুলছে। ইতিমধ্যে ওই বাগান থেকে আঙুর বিক্রিও শুরু হয়েছে। প্রতি থোকায় ১৫-৩৫টি আঙুর ধরেছে, যার ওজন ১০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। ইতিমধ্যে প্রতি কেজি আঙুর ২৬০ টাকা দরে বিক্রি করে বাণিজ্যিকভাবে আঙুরের বিক্রি শুরু করেছেন রুহুল ইসলাম। বাগানে লাগানো আঙুর গাছগুলোতে বছরে দু'বার আঙুর ধরবে। এই আঙুর বিদেশি আঙুরের মতোই মিষ্টি ও সুস্বাদু। জমি বাদে তাদের এই বাগান তৈরি করতে এ পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তারা এই গাছ থেকে ১০ হাজার চারা তৈরি করেছেন। এ বছর আঙুর ও চারা বিক্রি করে এক কোটি টাকা আয় করবেন বলে প্রকৌশলী রুহুল ইসলামের ভাই বাগান তত্ত্বাবধায়ক জিল্লুর রহমান আশা করছেন। জয়পুরহাট জেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা প্রায়ই রুহুল ইসলামের আঙুরের বাগানে যাই এবং তাদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। আঙুরগুলো খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদুু। জয়পুরহাটের মাটিতে আঙুর চাষ লাভজনক হবে। জয়পুরহাটে রুহুল ইসলামের আঙুর চাষের পর এই লাভজনক আবাদের বিষয়ে আরও অনেকে উৎসাহিত হয়ে উঠছেন। এই লাভজনক আবাদ সম্প্রসারিত হলে অর্থনৈতিকভাবে এ অঞ্চলে একটি বিপল্গব ঘটবে। আঙুর চাষের এলাকা সম্প্রসারিত হলে একদিকে দেশের আঙুরের চাহিদা অনেকটা মিটবে এবং অন্যদিকে বিদেশ থেকে আঙুর আনার প্রবণতা কমে যাবে। বাঁচবে বৈদেশিক মুদ্রা। আঙুর আসবে সাধারণ মানুষের নাগালে।

Saturday, June 15, 2013

কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল


বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ম অনুসারে হালকা কৃষি যন্ত্রাংশ ও কৃষি পণ্যের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানই এসএমই খাতভুক্ত। শিল্পের ভূমি ও ইমারত খরচ বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি পর্যন্ত এসএমই শিল্প খাতের আওতায়। দেশের বিভাগীয় সদর ও নারায়ণগঞ্জ শহর বাদে কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য মফস্বলভিত্তিক শিল্প স্থাপনের জন্য এই ঋণ দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকা অনুযায়ী ৩৬টি খাতের মধ্যে ২০টি খাদ্যজাত ও ১৬টি খাদ্য বহির্ভূত কৃষিজাত শিল্প হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১৬২ কোটি ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৮৩৭ টাকা। এ বিতরণকৃত ঋণ ২১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ১৭টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৯৯৩টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে।

জানা গেছে, কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতের সুষ্ঠু বিকাশ ও উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক শতভাগ পুনঃঅর্থায়ন করে থাকে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন অনুসারে ঋণ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কৃষিভিত্তিক এ শিল্প খাতে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে চলতি মূলধন এক বছর , তিন বছর , পাঁচ বছর মেয়াদ হারে এ ঋণ দিয়ে থাকে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

Friday, June 14, 2013

গ্যানোডার্মার বীজ উত্পাদন


গ্যানোডার্মার বীজ উত্পাদন:
মাশরুমের অঙ্গজ বীজ অর্থাত্ স্পন তৈরির জন্য প্রধান উপাদান হিসেবে কাঠের গুঁড়ো,আখের ছোবরা,ভুট্টার খড় ব্যবহার করা যায়, এর সাথে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে গমের ভূষি, চালের কুঁড়া, ভুট্টার গুঁড়ো প্রভৃতিব্যবহার করাযায়।মাশরুম উন্নয়নওকেন্দ্র কাঠের গুঁড়ো, গমের ভূষি ও চালের কুঁড়া দিয়ে অত্যন্ত সহজে স্পন তৈরি করছে যাতে ভাল ফলনপাওয়াযায়।
সাবস্ট্রেট ফরমুলেশন ও স্পন তৈরি:
ফরমুলেশন-১: কাঠের গুঁড়ো- ৭০%, গমের ভূষি-২৫%, ধানের তুষ-০৫%, ক্যালসিয়াম কার্বনেট-০.২%, পানি- ৫০ থেকে ৬০%।
ফরমুলেশন-২: কাঠের গুঁড়ো- ৭০%, চালের কুঁড়া ২২.৫%, ধানের তুষ-২.৫%, ক্যালসিয়াম কার্বনেট-০.২%,  পানি- ৫০ থেকে ৬০%।
 উল্লেখিত উপাদানগুলো ভালভাবে মিশিয়ে পিপি ব্যাগে ১ কেজি অথবা আধা কেজিকরে ভরে প্লাস্টিক নেক দিয়ে বেঁধে কাঠের কীলক দ্বারা প্যাকেটের মুখে গর্ত করে দিতে হবে। এরপর কটনপ্লাগ দিয়ে মুখ বন্ধ করে ব্রাউন পেপার এবং রাবার ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। এরপর অটোক্লেভ মেশিনে ১২০০ সে. তাপমাত্রায় ১.৫কেজি/ঘন ইঞ্চি বাষ্প চাপে ২ ঘণ্টা রেখে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। প্যাকেট ঠাণ্ডা হলে ল্যাবরেটরিতে ক্লিনবেঞ্চে জীবাণুমুক্ত অবস্থায় মাদার কালচার দিয়ে উক্ত প্যাকেটে ইনোকুলেশন করতে হবে। ইনোকুলেশনকৃত প্যাকেটগুলোকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন অন্ধকার ঘরে ২৮ থেকে ৩৫০ সে. তাপমাত্রায় মাইসেলিয়াল কলোনাইজেশনের জন্য রেখে দিতে হবে। এভাবে ২০থেকে ২৫ দিন রাখার পর মাইসেলিয়াম দ্বারা প্যাকেট পূর্ণ হবে যা পরবর্তীতে চাষ ঘরে ব্যবহূত হবে।
প্যাকেট কাটা:  গ্যানোডার্মা মাশরুমের স্পন প্যাকেট বিভিন্নভাবে কাটা যায়। চাষ ঘরে প্যাকেট বসানোর আগে মাইসেলিয়াম পূর্ণ স্পন প্যাকেট হতে নেক, তুলা, ব্রাউন পেপার ইত্যাদি খুলে প্যাকেটের মুখ রাবার ব্যান্ড দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। কোণাযুক্ত প্যাকেটের একপাশে মাঝ বরাবর এক বর্গ সে.মি. আকারে পিপি কেটে ব্লেড দিয়ে সাদা অংশ চেঁছে ফেলতে হবে। এরপর চাষ ঘরের তাকে সারি সারি করে বসিয়ে দিতে হবে। স্পন প্যাকেট হতে নেক, তুলা, ব্রাউন পেপার ইত্যাদি খুলে প্যাকেটের মুখ খোলা রেখে দিয়েও মাশরুম চাষ করা যায়। চাষ ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের কৌশল থাকলে স্পন প্যাকেটের উপরের পুরো মুখ খুলে দিয়ে ও মাশরুম চাষ করা যেতে পারে।
পরিচর্যা: প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য দিনে ৩ থেকে ৪ বার মৃদু পানি সেপ্র করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কোনো অবস্থায় আর্দ্রতার পরিমাণ কমে না যায়। এভাবে পরিচর্যা করলে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই সাদা শক্ত মাসরুমের কুড়ি , ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আঙুলেরমত লম্বা হয়ে লালচে বর্ণের এবং ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রভাগ হাতের তালুরমত চ্যাপ্টাকৃতি ধারণ করবে। এই অবস্থায় চাষ ঘরের আলো ও বায়ু চলাচল বাড়িয়ে দিতে হবে।
মাশরুম সংগ্রহ: ঘরে বসানোর দের মাসের মধ্যেই মাশরুম সংগ্রহ করা যায়। পরিপক্ক ফ্রুটিং বডি সংগ্রহের উপযোগী লক্ষণ হল মাসরুমের কিনারার বৃদ্ধি থেমে গিয়ে চকচকে লাল বর্ণ ধারণ করে এবং অসংখ্য লালচে স্পোর নিচে পরতে দেখা যায়। পরিপক্ক ফ্রুটিং বডি তুলে নেওয়ার পরে প্যাকেটের কাটা স্থানে একটু চেঁছে দিলে খুব দ্রুত দ্বিতীয় বার ফলন পাওয়া যায়। এভাবে নিয়মিত পরিচর্যা করলে প্রতি প্যাকেট হতে ৩ থেকে ৪ বার ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি কেজি স্পন থেকে ৭০ থেকে ৯০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যায়।
সংরক্ষণ:
গ্যানোডার্মা মাশরুম সংগ্রহ করে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে রোদে শুকাতে হবে। এরপর পিপি ব্যাগে বা বোতলে ভরে বায়ুরোধী অবস্থায় ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়া স্লাইস বা পাউডার করেও অনেক দিন রাখা যায়। ৩.০-৩.৫ কেজি তাজা মাশরুম শুকালে ১ কেজি শুকনো ঋষি মাশরুম পাওয়া যায়।
ব্যবহার: মাশরুম পাউডার করে বা স্লাাইস করে কেটে পানিতে মৃদু তাপে জ্বাল দিয়ে মাশরুমের নির্জাস বের করে লেবুর রসসহ গরম-গরম অথবা ঠাণ্ডা করে খাওয়া যায়।

কাজু বাদাম- বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা

কাজু বাদাম- বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা । আমের আরেক ভাই কাজু বাদাম। খুবই সুস্বাস্থ্য একটি ফল। এক হাজার টাকা কেজি। ভারত প্রতি বছর কাজু বাদাম রপ্তানি করে হাজার হাজার ডলার আয় করছে। বাংলাদেশের জলবায়ু কাজু বাদাম চাষের উপযোগী হলেও খুবই মূল্যবান এ ফলটি চাষের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আমাদের পার্বত্য এলাকা ছাড়াও অন্যান্য জেলায় কাজু বাদামের চাষ করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। দেশীয় বাজারেও ওই বাদামের বেশ চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ২১ শতাংশ আমিষ, ৪৭ শতাংশ স্নেহজাতীয় পদার্থসহ অন্যান্য ভিটামিন থাকায় এটি স্বাস্থ্যসম্মত। কাজু বাদাম এমনি খেতে খুবই চমৎকার। এছাড়া মিষ্টি, ফিরনি-পায়েস, পোলাও-কোর্মার সঙ্গে স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ ভারত এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে কাজুর চাষ হয়। ওইসব স্থানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাগানের মতো কাজু বাদামের বিরাট বিরাট বাগান রয়েছে। ভারতে প্রথম পর্তুগিজরা ভূমিক্ষয় রোধ করার জন্য কাজু বাদামের চাষ শুরু করে। ব্রাজিল কাজু বাদামের আদি নিবাস। মাঝারি আকৃতির গাছে প্রচুর ফল হয়। চারা রোপণের ৪/৫ বছরের মধ্যে গাছে ফুল-ফল আসে। আম পাতার মতো কাজুর পাতা। তবে অভিনবত্ব হচ্ছে কাজুর ফল। এক গাছে দু'ধরনের ফল হয়। একটির নাম কাজু আপেল, অন্যটির নাম কাজু বাদাম। দুটি ফলই খাওয়া যায়। প্রথমে নরম তুলতুলে কাজু আপেল জন্মে। এই আপেলের মাথায় জন্মে কাজু বাদাম। কাজু আপেল সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়। অনেকে এর জুস খায়। আপেলের রঙ হয় হলুদ। পাকলে আপনাআপনি ঝরে পড়ে। আপেলের মাথায় বাঁকা ফলই কাজু বাদাম। বাদামের ওপরে মোটা সহজ রঙের খোসা থাকে। বিশেষ পদ্ধতিতে প্রয়োগ করে এর খোসা ছাড়িয়ে বের করা হয় কাজু বাদাম। আমি যশোরের চাঁচড়ায় ১০ বছর আগে ভারত থেকে সংগ্রহ করে একটি কাজু বাদামের চারা রোপণ করেছিলাম। পাঁচ বছর ধরে গাছটিতে নিয়মিত ফল হচ্ছে। এখন একটি গাছেই প্রতি বছর ১০-১২ কেজি ফল হয়। এর ফুল দেখতে বেশ সুন্দর। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ফুল আসে। যত্ন-আত্তির প্রয়োজন হয় না। বছরে একবার সার প্রয়োগ করা হলে ভালো ফল পাওয়া যায়। বীজ থেকে চারা হয়। তবে এখন গ্রাফটিং কলমের চারা বড় নার্সারিতে কিনতে পাওয়া যায়। কাজুর সমস্যা হচ্ছে ফল ছাড়ানো। ফলের ওপরের খোসা মোটা। এতে এক ধরনের তেল থাকে। তেল মূল্যবান। তবে তেল খাওয়া যায় না। অতি মূল্যবান ফসল কাজু বাদাম চাষের উদ্যোগ নেয়া হলে কৃষি ক্ষেত্রে আরেকটি বিশেষ ঘটনা ঘটবে।

দোতলা পদ্ধতিতে কৃষিকাজ দ্বিগুণ ফসল উৎপাদন

দোতলা পদ্ধতিতে কৃষিকাজ বর্তমানে দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি নষ্ট না করে এ পদ্ধতিতে দ্বিগুণ ফসল উৎপাদন করা যাবে এতে ফসল উৎপাদনের তেমন কোন হেরফের হচ্ছে না, বরং দ্বিগুণ উৎপাদনের কারণে কৃষক লাভবান হচ্ছে। আর এ পদ্ধতিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করলে উৎপাদন দ্বিগুণ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এ পদ্ধতিতে কৃষিজমি নষ্ট হয় না। ফসলের ক্ষেতে ছায়া পড়ার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই। সারাদিন রোদ ও বাতাস থাকলে মাচার নিচের ফসলের গায়েও তা লাগবে। ইতোমধ্যে গ্রামীণ শক্তি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করেআসছে।তাই এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে সোলার প্যানেল বসিয়ে সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধান উৎপাদনের চিন্তাকরছে সরকার। বর্তমানে সোলার পাম্প বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু যে পদ্ধতিতে কৃষিজমিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করা হচ্ছে তাতে অনেক জমি নষ্ট হচ্ছে। ফলে সে জমিতে অতিরিক্ত কোন ফসলের চাষ করা সম্ভব হয় না। কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, ধান ক্ষেতের ওপরে মাচা তৈরি করে দোতলা পদ্ধতিতে সহজেই লাউ কুমড়োর চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে মাচার নিচের ফসলের উৎপাদনের কোন হেরফের হচ্ছে না, বরং দ্বিগুণ ফসল উৎপাদন হচ্ছে। মাচার ফাঁক গলে যে আলো বাতাস আসে তা দিয়ে ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।
এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে সোলার প্যানেল বসিয়ে কৃষিজমিতে সেচের কথা জানিয়েছেন বিদ্যুত সচিব আবুল কালাম আজাদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করলে অতিরিক্ত কৃষিজমি নষ্ট না করেই ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। বিদ্যুত সচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ পদ্ধতিতে প্যানেল বসিয়ে প্যানেলের নিচে ফসল উৎপাদন করা যায় কি না তা গবেষণা করে বিদ্যুত উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে করে সেচের জমিতে প্যানেল বসালে যে জমি নষ্ট হয় তা অন্য কাজে বা ফসল উৎপাদনেরও ব্যবহার করা যাবে। জমি নষ্ট না করে কৃষিজমিতে প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করা হলে তাতে ফসলের উৎপাদনও অনেকগুণ বেড়ে যাবে।
দেশে দোতলা পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনের এ পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে তুলছেন বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর গবেষকরা। তাঁরা দেখিয়েছেন ধানের ক্ষেতে মাচা করে লাউ-কুমড়োর চাষ করা হলে তাতে নিচের ধান ক্ষেতে উৎপাদনে কোন সমস্যা নেই। গবেষণায় তাঁরা দেখিয়েছেন একটি ফাঁকা জমিতে যে পরিমাণ ধান উৎপাদন করা হচ্ছে, দোতলা পদ্ধতির চাষের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উৎপাদন হচ্ছে, বরং দোতলা পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে কৃষক অধিক লাভবান হচ্ছে। বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর মহাপরিচালক এমএ মতিন জানান, এ পদ্ধতিতে কৃষক ধান ক্ষেতের ওপরে লাউ-কুমড়োর চাষ করে অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকার ফসল উৎপাদন করতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পদ্ধতিতে যদি ফসলের উৎপাদন না কমে তাহলে একইভাবে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুত উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। দেশে সৌরবিদ্যুত নিয়ে কাজ করছে গ্রামীণ শক্তি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবহার জনপ্রিয় করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। গ্রামে যেখানে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি সেসব এলাকায় সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থায় তারা বিদ্যুত পৌঁছে দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সোলার হোম সিস্টেম ছাড়াও কৃষিজমিতে সোলার পাম্প বসিয়ে উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের সহায়তা দিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে সেচপাম্প। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে নওগাঁর সাপাহার এলাকায় একই পদ্ধতিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে তারা সবজি উৎপাদন ও ধান উৎপাদনে সহায়তা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প বিদ্যুত ব্যবহার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এমএ গোফরান। তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে ফসলের জমি নষ্ট না করেই উৎপাদন করা সম্ভব। দিনে রোদ থাকলে নিচের ফসলে ছায়া পড়ার সম্ভাবনা নেই। যেভাবেই হোক ফসলের গায়ে রোদ লাগবে। এতে করে ফসল উৎপাদনের তেমন কোন হেরফের হবে না। তিনি বলেন, গ্রামীণ শক্তি ইতোমধ্যে এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ধান ও সবজি একসঙ্গে উৎপাদন করছে।
এখন আর সোলার প্যানেলের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদ আলোকিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, কৃষি উৎপাদনে এখন সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। ইডকলের উদ্যোগের দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে সোলার সেচপাম্প। এর মধ্যে নওগাঁর সাপাহারে স্থাপন করা হয়েছে ১১.২ কিলোওয়াটের একটি সেচপাম্প, যা থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ লিটার পানি সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে। ইডকলের আর একটি সেচপাম্প স্থাপন করা হচ্ছে যশোরের বানিয়ালিতে। এর মাধ্যমে সাড়ে ২২ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়া সম্ভব হবে। ইডকলের গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, এসব সেচপাম্প প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সেচ বাবদ খরচ হওয়া বছরে ৮ হাজার লিটার ডিজেল সাশ্রয় হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌরবিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময় একটি দেশ। কারণ এখানে বছরে তিন শ’ দিনেরও বেশি রোদ থাকে। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভিত্তিতে সৌরবিদ্যুত নিয়ে কাজ করছে। ইনস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (ইডকল) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ সেক্টরে বিশ্বব্যাংক সামগ্রিক অর্থায়ন করছে। সরকারী মালিকানার এই প্রতিষ্ঠান সারাদেশে সৌরবিদ্যুত প্রসারের জন্য অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে। ১৫ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণের আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখের বেশি বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।ফলে গ্রামীণ জনপদে প্রায় এক কোটি লোক এখন সৌরবিদ্যুতের সুবিধা ভোগকরছে।সৌরবিদ্যুত ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করাহলে উৎপাদন দ্বিগুণ হতেপারে।তবে দেশে সৌরবিদ্যুতের জনপ্রিয়তা বাড়লেও এরদাম এখনও মানুষেরনাগালের বাইরে।গতকয়েক বছরে কিছুটা কমলেও এখনও তা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনা সম্ভব হয়নি।ডাউন পেমেন্ট বা কিস্তি সুবিধার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারে উৎসাহিত করাহচ্ছে।এখন পর্যন্তসোলার প্যানেলের সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে।অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে সৌরবিদ্যুতের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে।এখন বিভিন্ন কাজে এটিকে ব্যবহারের চিন্তভাবনা চলছে।

আফ্রিকার বাজারে চীনা গাড়ির উজ্জ্বল সম্ভাবনা

আফ্রিকার বাজারে চীনা গাড়ির উজ্জ্বল সম্ভাবনা 
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হওয়ার ফলে গাড়ি ক্রয়ের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে এবছর আফ্রিকার বাজারে মোট ১০ লাখ গাড়ি বিক্রি হবে এবং আগামী এক দশকের মধ্যে আফ্রিকার গাড়ি-শিল্প উন্নয়নের নবাগত শক্তি দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গে তুলনা করা যাবে। গাড়ি-শিল্পের এই অপার সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চীনের বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতমধ্যেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আফ্রিকায় গাড়ি উত্পাদন শুরু করেছে।
২০১১ সালে কেনিয়ায়, ফোটন গাড়ির উত্পাদন কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে আফ্রিকায় এ শিল্পের বানিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে চিলি আর মিশরের কোম্পানির সাথে গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা এবং মিশরে গাড়ি-সংযোজন কারখানা ও বিক্রির বিষয়ে সহযোগিতামূলক চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই হচ্ছে উত্তর আফ্রিকার বাজারে চীনের গাড়ি-শিল্প প্রবেশের প্রথম পর্যায়ের ইতিহাস। একই সালে চীন-আফ্রিকা উন্নয়ন তহবিল আর চীনের প্রথম-গাড়ি, হুয়াচেন, চেরি এবং উত্তরাঞ্চল-গাড়ি কোম্পানির মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতামূলক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চীনের উত্তরাঞ্চল-গাড়ি কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি ব্যবস্থাপক ওয়াং সিয়াও ছুন সংবাদদাতাকে জানান, আফ্রিকার বাজারে এই কোম্পানিটি যথেষ্ট আস্থা ও মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন,"আমরা মনে করি, আফ্রিকার বাজারে চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সুযোগ পাবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কেবল উত্তরাঞ্চলের গাড়ি নয়, চীনের অন্যান্য অঞ্চলের ভারি ও হালকা গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যথেষ্ঠ সাফল্য অর্জন করবে।"
জানা গেছে, চীনের ভারি ট্রাক প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর আফ্রিকার বাজারে রপ্তানির পরিমান ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চল-গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারি ট্রাক সংযোজন আর বিক্রয়ের কেন্দ্র স্থাপন করেছে।
এ প্রসঙ্গে ওয়াং সিয়াও ছুন বলেন, "চীনের গাড়ি বিশ্ব বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকান দেশগুলোর তুলনায় এ সকল দেশের বাজারগুলোকে দ্বিতীয় শ্রেণীর বাজার বলা যায়। তবে এ দেশগুলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরোপিত বিধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গ্যাস সরবরাহ সহ নানাবিধ শর্ত বিষয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রথম শ্রেণীর বাজারের চেয়ে অনেক নমনীয়। তুলনামূলকভাবে চীনা গাড়ির গুণগতমান উন্নত। এমনকি বাণিজ্যিক উত্পাদনের দিক দিয়ে ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ির তুলনায়ও চীন যথেষ্ট এগিয়ে আছে।"
চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে এজেন্টের মাধ্যমে প্রবেশের করে। এবং গত বছর থেকে উত্পাদন ও বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে পর্যায়ক্রমে সহজ ও উন্নত করা শুরু করেছে। পাশাপাশি আফ্রিকান দেশগুলোও বিদেশী পুঁজির ওপর দিন দিন গুরুত্ব আরোপ করছে। অনেক আফ্রিকান দেশ বিনিয়োগ-বান্ধব নানা সহায়তা-নীতি চালু করেছে। যেমন বিনিয়োগ অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করা, সহজ শুল্ক হার নির্ধারণ করা আর অবকাঠামোগত উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করা ইত্যাদি। এ সকল সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে চীনের বেশকিছু গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আফ্রিকায় তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সেখানে উত্পাদন শুরু করেছে।
উত্পাদনের দক্ষতা আর বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করে। ওয়াং সিয়াও ছুন বলেন, "চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আফ্রিকার বাজারে প্রবেশের সময় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চীনের নিজস্ব জাতীয় ব্র্যান্ড ব্যবহার করেছে। এখন চীনের প্রধান গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিদেশে নিজের ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা এবং তার মান সু-রক্ষার বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গাড়ির গুণগতমানের শ্রেষ্ঠত্ব সুরক্ষা করা; মূল্যমানে সহজলভ্যতা অর্জন করা; কার্যকর ব্যবসা-কৌশল গ্রহণ এবং আন্তর্দেশীয় বাণিজ্যিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে চীনের গাড়ি শিল্প আফ্রিকার বাজারে দ্রুত বিস্তার লাভ করতে সক্ষম।

পশ্চিম আফ্রিকায় পণ্য রফতানি ও কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে


পশ্চিম আফ্রিকায় পণ্য রফতানি ও কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে
কূটনৈতিক রিপোর্টার : পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস জানিয়েছেন, পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঘানা, লাইবেরিয়া, আইভরিকোস্ট ও সেনেগালে বাংলাদেশী পণ্য রফতানির যেমন বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে তেমনি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ফার্ম এসব দেশে বিপুল পরিমাণ উর্বর জমি লীজ নিয়ে কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে পারে।
সম্প্রতি এসব দেশ ঘুরে এসে এসব সম্ভাবনার কথা জানাতে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজন করা হয় এক প্রেস ব্রিফিং এর। প্রেস ব্রিফিং-এ পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও তার অন্যান্য সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার অংশ হিসেবে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালে মাত্র ৭ কোটি মানুষ ছিল। তখন বাংলাদেশ খাদ্যে ছিল পরনির্ভর। বর্তমানে ১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ প্রায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই বিষয়টি পশ্চিম আফ্রিকায় বাংলাদেশকে নিয়ে একটি বিস্ময়ের ব্যাপার। তাদের মতে বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনে অনেক এগিয়ে গেছে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়। এজন্য কৃষি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে তারা খুবই আগ্রহী। তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাবে তারা জমি লীজ দিতে রাজী আছে। এখন কিছু ফার্ম তৈরীর মাধ্যমে জমি লীজ নিয়ে চাষাবাদ করে ফসল উৎপাদন সম্ভব। এর মাধ্যমে তখন বিপুল জনশক্তিও রফতানি হবে।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, ধান, তুলা, কোকো, রাবার, বাদাম জাতীয় ফসল, কফিসহ নানা জাতীয় কৃষি পণ্য উৎপাদন করার উপযোগী লাখ লাখ একর উর্বর জমি রয়েছে এসব দেশে। ফার্মিং স্কিমের মাধ্যমে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
এক প্রশ্নের জবাবে মিজারুল কায়েস বলেন, এসব দেশে সরাসরি জনশক্তি রফতানির বিষয়টি বেশ স্পর্শকাতর। কারণ খৃস্টান ও মুসলমানদের সংখ্যার যে ভারসাম্য রয়েছে সেখানেই সমস্যা। বাংলাদেশ থেকে অধিক জনশক্তি এসব দেশে রফতানি হলে তারা মনে করবে যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য কৌশলে কৃষি, ঔষধসহ বিভিন্ন সেক্টরে আমাদের সংশ্লিষ্টতা বাড়াতে ঐসব সেক্টরে লোক পাঠানো যেতে পারে। ঐসব দেশে ভৌত অবকাঠামোর বেশ সংকট। আমরা এসব খেত্রে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারি।