Monday, December 2, 2013

বিদ্যুত্-জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সহায়ক বায়োগ্যাস



বগুড়ায় বর্জ্য থেকে উত্পাদিত বায়োগ্যাস দিয়েই এখন থেকে চলবে গাড়ি। মিটবে বাসাবাড়ির জ্বালানি সমস্যা। মানুষ গবাদিপশুর মলমূত্র কাজে লাগিয়ে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা এই প্রযুক্তি আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও খুব শিগগিরই এর পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করছেন তারা। আর এটা করা গেলে গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা আয় বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি ঋণ গ্রহণের সুবিধা পাবে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে কমিউনিটি বায়োগ্যাস প্রকল্প। গত শুক্রবার একাডেমি চত্বরে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বায়োগ্যাসের এই প্রকল্প এবং কার্যকারিতা দেখে এসেছেন

আরডিএ উপ-পরিচালক সমির কুমার সরকার জানান, যে কোনও পচনশীল বস্তু যেমনমানুষ পশুপাখির মলমূত্র, গৃহস্থালির আবর্জনা বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচানো হলে এক ধরনের রংবিহীন গ্যাস তৈরি হয়। একে ইংরেজিতে বলা হয় বায়োজিক্যাল মেটারিয়াল আর বাংলায় বায়োগ্যাস। বায়োগ্যাসে শতকরা ৪০ থেকে ৬০ ভাগ মিথেন থাকে ফলে এই গ্যাস শহরাঞ্চলে সরবরাহকৃত গ্যাসের মতোই জ্বালানি হিসেবে রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায়। বায়োগ্যাসে রান্না ধোঁয়া কালিমুক্ত

তিনি জানান, এই গ্যাস শুধু যে রান্নার কাজেই ব্যবহূত হয় তা নয়, এটা দিয়ে জেনারেটর চালিত বিদ্যুত্ উত্পাদন করে বৈদ্যুতিক নানা রকমের সরঞ্জাম চালানো যায়। এটা সিলিন্ডারে ভরে সরবরাহ করা যায়। সিএনজি রূপান্তরিত গাড়ি চালানো যায়। এই গ্যাস পচনশীল দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য থেকে তৈরি হওয়ার কারণে পোলিও, টাইফয়েড, যক্ষ্মা পরজীবীর মতো রোগজীবাণু ধ্বংস করে। তিনি জানান, বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উত্পাদিত গ্যাস প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করে বাড়ি ঘরে চুলায় রান্না-বান্না করা ছাড়াও সিলিন্ডারে বোতলবন্দি করা হয়েছে। সিএনজি স্টেশন বসানোর কাজও শেষ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে মোটরযানেও এই গ্যাস দিতে সক্ষম হবে আরডিএ

আরডিএর তথ্য মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে গরু মহিষের সংখ্যা ২২ মিলিয়ন। দৈনিক গড়ে ১০ কেজি হিসেবে গরু/মহিষ থেকে গোবর পাওয়া যায় ২২০ মিলিয়ন কেজি। প্রতি কেজি গোবর থেকে .০৩৬ ঘন মিটার হিসেবে বছরে প্রায় .৯২ মিলিয়ন ঘন মিটার বায়োগ্যাস পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া হাঁস-মুরগি, ছাগল-ভেড়ার বিষ্ঠা, মানুষের মলমূত্র, আবর্জনা, কচুরিপানা থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বায়োগ্যাস পাওয়া সম্ভব। পরিবারের ল্যাট্রিন বায়োগ্যাস প্লান্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা হলে মানুষের মলমূত্রসহ অন্যান্য পচনশীল বর্জ্য বায়োগ্যাস প্লান্টে ব্যবহূত হবে। এতে বিপুল পরিমাণ উত্কৃষ্টমানের জৈব সার বায়োগ্যাস পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এনে দিতে পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ। এছাড়া গ্রিন হাউজ গ্যাস জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি  হ্রাসকরণেও বায়োগ্যাস প্রযুক্তি বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে

আরডিএর মহাপরিচালক আব্দুল মতিন জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে গ্যাসের কোনও সংকট থাকবে না। গাড়িতে এই গ্যাস ব্যবহার করা একেবারেই নিরাপদ। সরকার মোট ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আরডিএকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই প্লান্ট স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে। তিনি জানান, কমিউনিটি বায়োগ্যাস প্রকল্প দেশের ৭টি বিভাগের ৩৬টি জেলায় ১১২টি স্থানে স্থাপন করা হবে। এরমধ্যে রংপুরে ৩১টি, রাজশাহীতে ৩৮টি, ঢাকায় ২০টি, খুলনায় ১২টি, চট্টগ্রামে ৪টি, বরিশালে ৩টি এবং সিলেটে ৪টি স্থান রয়েছে। ইতোমধ্যেই এই প্রকল্পে বছরে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ মিলেছে। আর কমিউনিটি বায়োগ্যাস প্রকল্প করা হয়েছে ৪০টি। বাকিগুলো স্থাপনের কাজ চলছে

প্রকল্পটির সমা্ভব্যতা সম্পর্কে জানা যায়, একটি গ্রামে একটি বায়োগ্যাসের প্রকল্প থাকবে। সেখানে গ্রামের প্রতিটি পরিবারের বর্জ্য এবং গোবর জমা করা হবে। সেখান থেকে প্রতিটন গোবর থেকে মিলবে ১০০০ ঘটফুট গ্যাস। সেই গ্যাস প্রসেস করে ব্যবহার উপযোগী করে তোলার পর ৫০০ ঘনফুট টিকবে। আর গ্যাস বের করে নেওয়ার পর যে সার পড়ে থাকবে তা কৃষকের কাছ থেকে কিনে নেওয়া হবে প্রতিটন হাজার টাকায় কৃষক ইচ্ছে করলে সেই সার নিজেরাও ব্যবহার করতে পারবে

Wednesday, July 17, 2013

ফাইবারের ভাস্কর্য

ফাইবারের
যেভাবে বাননো হয় ভাস্কর্য
রেজিন, কেমিক্যাল এঙ্েেলটর, ওভাল, সাদা পাউডার রং, মোম ও জেলকোড দিয়ে কেমিক্যাল মিঙ্ার বানাতে হয়। পা থেকে শুরু করে পরতে
পরতে মিঙ্ার দিয়ে ফাইবার গ্লাস লাগিয়ে যেতে হয়। দুই থেকে তিন দিনে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় একটি ভাস্কর্য।

কাঁচামাল ও লাভ
ফাইবার ভাস্কর্য বানাতে প্রয়োজন পড়বে ফাইবার গ্লাস, রেজিন, কেমিক্যাল এঙ্েেলটর, ওভাল, পাউডার, সাদা রং, মোম, জেলকোড। আর লাগবে
একজনের ছয় দিনের সমপরিমাণ শ্রম। কাঁচামাল সংগ্রহ করা যাবে গুলিস্তানের নাসির গ্লাস নামের দোকান থেকে। এ ছাড়া যেকোনো পাইকারি প্লাস্টিক
কাঁচামাল আমদানিকারক দোকান থেকেও সংগ্রহ করা যাবে এসব কাঁচামাল।

মাশরুম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা


মাশরুম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা হচ্ছে সিলেটে  নাজমুল আলম শিশির
বাংলাদেশে মাশরুমের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগের ফলে মাশরুমের ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ আগের তুলনায় এখন অনেক বেড়েছে। দিনে দিনে মাশরুম সম্পর্কে মানুষের নানা ভ্রান্ত ধারণাও পাল্টে যাচ্ছে। অনেকেরই প্রিয় খাদ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে মাশরুম। ফলে বাড়ছে উৎপাদন, সম্প্রসারিত হচ্ছে বাজার। আর লাভবান হচ্ছেন মাশরুম চাষীরা। এ সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের প্রথম মাশরুম খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে সিলেট মাশরুম উৎপাদন বিপণন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড।
মাশরুম চাষ এবং বিপণনের সঙ্গে জড়িতরা জানান, কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশে মাশরুমের বাজার ছিল সীমিত। কেবল ঢাকাসহ বড় বড় শহরের চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, তারকাখচিত হোটেল ও বিদেশি ফাস্টফুডের দোকানেই ছিল মাশরুমে চাহিদা। ক্রেতা ছিলেন দেশে অবস্থানরত বিদেশিরা। এখন দেশীয়দের ভেতরেই গড়ে উঠেছে মাশরুমের ভোক্তা-শ্রেণী। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকানের পাশাপাশি ফুটপাতেও মাশরুমের তৈরি খাবার পাওয়া যাচ্ছে।
চাষীরা বলছেন, অন্য যে কোনো চাষের চেয়ে মাশরুমের চাষ লাভজনক। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশ সব দিক থেকেই মাশরুম চাষ বাংলাদেশের জন্য লাভজনক। মাশরুম চাষে পুঁজি ও শ্রম লাগে কম। আর মাত্র সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে মাশরুম পাওয়া যায়। আর খরা, বৃষ্টি বা অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাশরুম উৎপাদন ব্যাহত হয় না বলে লোকসান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। মাশরুম চাষী গৌর বন্ধু দাস কাঁচা মাশরুমের উৎপাদন খরচ কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা বলে জানান। আর বাজারে বিক্রি হয় ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। আর শুকনা মাশরুম প্রতি কেজি এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
জাপান সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় ঢাকার অদূরে সাভারের হর্টিকালচার সেন্টারে আশির দশকের শুরুতে দেশের সর্বপ্রথম মাশরুম চাষ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ১৯৮৭ সালে মাশরুম চাষের প্রসারে এগিয়ে আসে। মাশরুম চাষের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ছয় বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। এরপর ২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদি মাশরুম উন্নয়ন প্রকল্প নামে আরো একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত চার বছর মেয়াদি মাশরুম উন্নয়ন জোরদার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সারাদেশে ১৬টি সাব সেন্টারের মাধ্যমে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে মাশরুম চাষ হচ্ছে। বিশ্বের উৎপাদিত মাশরুমের ৭০ ভাগই উৎপাদন হয় চীনে। আর ব্যবহারের দিক দিয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বে উৎপাদিত মাশরুমের শতকরা প্রায় ৩০ ভাগই ব্যবহৃত হয় আমেরিকায়। এ ছাড়া জার্মানিতে শতকরা ১৭ ভাগ, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে ১১ ভাগ, ইতালিতে ১০ ভাগ এবং কানাডায় বিশ্বে উৎপাদিত মাশরুমের শতকরা ৬ ভাগ ব্যবহৃত হয়। বাদবাকি ১৫ ভাগ মাশরুম ব্যবহার হয় বিশ্বের বাকি দেশসমূহে।
বাংলাদেশে আগের তুলনায় বর্তমানে মাশরুমের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। সিলেট মাশরুম উৎপাদন বিপণন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডেরই সদস্য আছে ২২১ জন চাষী। এই সমিতি মাশরুমের বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শ্রীরামপুরে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করেছে। এ ল্যাব থেকে প্রতি মাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার উন্নতমানের মাশরুম বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রথম মাশরুম খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে। 'ওয়েস্টার ফুড অ্যান্ড সুইট্স্ ইন্টাস্ট্রিজ' নামের এই প্রক্রিয়াজাতকণ কেন্দ্রে প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে সিলেট মাশরুম উৎপাদন বিপণন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এরই মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সিলেট শহরের তেলি হাওর এলাকায় এ কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে।
সিলেট মাশরুম উৎপাদন বিপণন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ডা. জালাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বাংলাদেশে প্রথম মাশরুম খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছি আমরা। প্রাথমিকভাবে দুই কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এর সাফল্যের ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।'
সিলেটের মাশরুম চাষী রফিকুল ইসলাম বলেন, মাশরুমের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ছাড়াও বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের উৎপাদিত মাশরুম দিয়ে দেশের চাহিদা মিটছে না। ফলে বাইরে থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। আরো বেশি উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করাও সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।