জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা রুহুল ইসলাম ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলের প্রধান প্রকৌশলী। ৪ বছর আগে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশের মিলডোয়ায় এক আঙুর খামার মালিকের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। জয়পুরহাট জেলার ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া ও মাটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে অস্ট্রেলিয়ার সেই খামারির পরামর্শে ২০০৯ সালে বীজহীন দুই জাতের এক হাজার আঙুরের চারা অস্ট্রেলিয়া থেকে আনান। এই চারার মধ্যে মেনিনডি ও ক্রিমসন সিডলেস জাত রয়েছে। তিনি তার ৬ বিঘা জমির উপরি ভাগের মাটি কেটে তুলে ফেলে ২ ফুট বালু ও মুরগির বিষ্ঠা মিশিয়ে আঙুর চাষের উপযোগী করে জমি তৈরি করেন। বিদেশ থেকে আনা ওই চারাগুলো থেকে তিনি আরও ২২৫টি চারা তৈরি করে মোট এক হাজার দুইশ' চারা তার জমিতে লাগান। আরসিসি খুঁটি ও জিআই তার দিয়ে তৈরি করেন জাংলা। অস্ট্রেলিয়ার ওই খামারির পরামর্শে তিনি তার আঙুরের বাগান পরিচর্যা করতে থাকেন। বাগান পরিচর্যার জন্য সার্বক্ষণিক ৬ জন কাজ করছে। রোগবালাই তেমন না থাকলেও পাখির হাত থেকে রক্ষার জন্য পলিথিনের ব্যাগ দিয়ে আঙুরের থোকা ঢেকে দিতে হয়। ১ বছর ৮ মাস পর রুহুল ইসলামের এই বিশাল বাগানের ৫শ' গাছে এখন থোকা থোকা মিষ্টি আঙুর ঝুলছে। ইতিমধ্যে ওই বাগান থেকে আঙুর বিক্রিও শুরু হয়েছে। প্রতি থোকায় ১৫-৩৫টি আঙুর ধরেছে, যার ওজন ১০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। ইতিমধ্যে প্রতি কেজি আঙুর ২৬০ টাকা দরে বিক্রি করে বাণিজ্যিকভাবে আঙুরের বিক্রি শুরু করেছেন রুহুল ইসলাম। বাগানে লাগানো আঙুর গাছগুলোতে বছরে দু'বার আঙুর ধরবে। এই আঙুর বিদেশি আঙুরের মতোই মিষ্টি ও সুস্বাদু। জমি বাদে তাদের এই বাগান তৈরি করতে এ পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তারা এই গাছ থেকে ১০ হাজার চারা তৈরি করেছেন। এ বছর আঙুর ও চারা বিক্রি করে এক কোটি টাকা আয় করবেন বলে প্রকৌশলী রুহুল ইসলামের ভাই বাগান তত্ত্বাবধায়ক জিল্লুর রহমান আশা করছেন। জয়পুরহাট জেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা প্রায়ই রুহুল ইসলামের আঙুরের বাগানে যাই এবং তাদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। আঙুরগুলো খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদুু। জয়পুরহাটের মাটিতে আঙুর চাষ লাভজনক হবে। জয়পুরহাটে রুহুল ইসলামের আঙুর চাষের পর এই লাভজনক আবাদের বিষয়ে আরও অনেকে উৎসাহিত হয়ে উঠছেন। এই লাভজনক আবাদ সম্প্রসারিত হলে অর্থনৈতিকভাবে এ অঞ্চলে একটি বিপল্গব ঘটবে। আঙুর চাষের এলাকা সম্প্রসারিত হলে একদিকে দেশের আঙুরের চাহিদা অনেকটা মিটবে এবং অন্যদিকে বিদেশ থেকে আঙুর আনার প্রবণতা কমে যাবে। বাঁচবে বৈদেশিক মুদ্রা। আঙুর আসবে সাধারণ মানুষের নাগালে।
Sunday, June 16, 2013
বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক আঙুর চাষ
জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা রুহুল ইসলাম ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলের প্রধান প্রকৌশলী। ৪ বছর আগে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশের মিলডোয়ায় এক আঙুর খামার মালিকের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। জয়পুরহাট জেলার ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া ও মাটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে অস্ট্রেলিয়ার সেই খামারির পরামর্শে ২০০৯ সালে বীজহীন দুই জাতের এক হাজার আঙুরের চারা অস্ট্রেলিয়া থেকে আনান। এই চারার মধ্যে মেনিনডি ও ক্রিমসন সিডলেস জাত রয়েছে। তিনি তার ৬ বিঘা জমির উপরি ভাগের মাটি কেটে তুলে ফেলে ২ ফুট বালু ও মুরগির বিষ্ঠা মিশিয়ে আঙুর চাষের উপযোগী করে জমি তৈরি করেন। বিদেশ থেকে আনা ওই চারাগুলো থেকে তিনি আরও ২২৫টি চারা তৈরি করে মোট এক হাজার দুইশ' চারা তার জমিতে লাগান। আরসিসি খুঁটি ও জিআই তার দিয়ে তৈরি করেন জাংলা। অস্ট্রেলিয়ার ওই খামারির পরামর্শে তিনি তার আঙুরের বাগান পরিচর্যা করতে থাকেন। বাগান পরিচর্যার জন্য সার্বক্ষণিক ৬ জন কাজ করছে। রোগবালাই তেমন না থাকলেও পাখির হাত থেকে রক্ষার জন্য পলিথিনের ব্যাগ দিয়ে আঙুরের থোকা ঢেকে দিতে হয়। ১ বছর ৮ মাস পর রুহুল ইসলামের এই বিশাল বাগানের ৫শ' গাছে এখন থোকা থোকা মিষ্টি আঙুর ঝুলছে। ইতিমধ্যে ওই বাগান থেকে আঙুর বিক্রিও শুরু হয়েছে। প্রতি থোকায় ১৫-৩৫টি আঙুর ধরেছে, যার ওজন ১০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। ইতিমধ্যে প্রতি কেজি আঙুর ২৬০ টাকা দরে বিক্রি করে বাণিজ্যিকভাবে আঙুরের বিক্রি শুরু করেছেন রুহুল ইসলাম। বাগানে লাগানো আঙুর গাছগুলোতে বছরে দু'বার আঙুর ধরবে। এই আঙুর বিদেশি আঙুরের মতোই মিষ্টি ও সুস্বাদু। জমি বাদে তাদের এই বাগান তৈরি করতে এ পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তারা এই গাছ থেকে ১০ হাজার চারা তৈরি করেছেন। এ বছর আঙুর ও চারা বিক্রি করে এক কোটি টাকা আয় করবেন বলে প্রকৌশলী রুহুল ইসলামের ভাই বাগান তত্ত্বাবধায়ক জিল্লুর রহমান আশা করছেন। জয়পুরহাট জেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা প্রায়ই রুহুল ইসলামের আঙুরের বাগানে যাই এবং তাদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। আঙুরগুলো খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদুু। জয়পুরহাটের মাটিতে আঙুর চাষ লাভজনক হবে। জয়পুরহাটে রুহুল ইসলামের আঙুর চাষের পর এই লাভজনক আবাদের বিষয়ে আরও অনেকে উৎসাহিত হয়ে উঠছেন। এই লাভজনক আবাদ সম্প্রসারিত হলে অর্থনৈতিকভাবে এ অঞ্চলে একটি বিপল্গব ঘটবে। আঙুর চাষের এলাকা সম্প্রসারিত হলে একদিকে দেশের আঙুরের চাহিদা অনেকটা মিটবে এবং অন্যদিকে বিদেশ থেকে আঙুর আনার প্রবণতা কমে যাবে। বাঁচবে বৈদেশিক মুদ্রা। আঙুর আসবে সাধারণ মানুষের নাগালে।
Saturday, June 15, 2013
কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ম অনুসারে হালকা কৃষি যন্ত্রাংশ ও কৃষি পণ্যের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানই এসএমই খাতভুক্ত। শিল্পের ভূমি ও ইমারত খরচ বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি পর্যন্ত এসএমই শিল্প খাতের আওতায়। দেশের বিভাগীয় সদর ও নারায়ণগঞ্জ শহর বাদে কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য মফস্বলভিত্তিক শিল্প স্থাপনের জন্য এই ঋণ দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকা অনুযায়ী ৩৬টি খাতের মধ্যে ২০টি খাদ্যজাত ও ১৬টি খাদ্য বহির্ভূত কৃষিজাত শিল্প হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১৬২ কোটি ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৮৩৭ টাকা। এ বিতরণকৃত ঋণ ২১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ১৭টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৯৯৩টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে।
জানা গেছে, কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতের সুষ্ঠু বিকাশ ও উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক শতভাগ পুনঃঅর্থায়ন করে থাকে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন অনুসারে ঋণ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কৃষিভিত্তিক এ শিল্প খাতে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে চলতি মূলধন এক বছর , তিন বছর , পাঁচ বছর মেয়াদ হারে এ ঋণ দিয়ে থাকে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
Friday, June 14, 2013
গ্যানোডার্মার বীজ উত্পাদন
গ্যানোডার্মার বীজ উত্পাদন:
মাশরুমের অঙ্গজ বীজ অর্থাত্ স্পন তৈরির জন্য প্রধান উপাদান হিসেবে কাঠের গুঁড়ো,আখের ছোবরা,ভুট্টার খড় ব্যবহার করা যায়, এর সাথে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে গমের ভূষি, চালের কুঁড়া, ভুট্টার গুঁড়ো প্রভৃতিব্যবহার করাযায়।মাশরুম উন্নয়নওকেন্দ্র কাঠের গুঁড়ো, গমের ভূষি ও চালের কুঁড়া দিয়ে অত্যন্ত সহজে স্পন তৈরি করছে যাতে ভাল ফলনপাওয়াযায়।
সাবস্ট্রেট ফরমুলেশন ও স্পন তৈরি:
ফরমুলেশন-১: কাঠের গুঁড়ো- ৭০%, গমের ভূষি-২৫%, ধানের তুষ-০৫%, ক্যালসিয়াম কার্বনেট-০.২%, পানি- ৫০ থেকে ৬০%।
ফরমুলেশন-২: কাঠের গুঁড়ো- ৭০%, চালের কুঁড়া ২২.৫%, ধানের তুষ-২.৫%, ক্যালসিয়াম কার্বনেট-০.২%, পানি- ৫০ থেকে ৬০%।
উল্লেখিত উপাদানগুলো ভালভাবে মিশিয়ে পিপি ব্যাগে ১ কেজি অথবা আধা কেজিকরে ভরে প্লাস্টিক নেক দিয়ে বেঁধে কাঠের কীলক দ্বারা প্যাকেটের মুখে গর্ত করে দিতে হবে। এরপর কটনপ্লাগ দিয়ে মুখ বন্ধ করে ব্রাউন পেপার এবং রাবার ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। এরপর অটোক্লেভ মেশিনে ১২০০ সে. তাপমাত্রায় ১.৫কেজি/ঘন ইঞ্চি বাষ্প চাপে ২ ঘণ্টা রেখে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। প্যাকেট ঠাণ্ডা হলে ল্যাবরেটরিতে ক্লিনবেঞ্চে জীবাণুমুক্ত অবস্থায় মাদার কালচার দিয়ে উক্ত প্যাকেটে ইনোকুলেশন করতে হবে। ইনোকুলেশনকৃত প্যাকেটগুলোকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন অন্ধকার ঘরে ২৮ থেকে ৩৫০ সে. তাপমাত্রায় মাইসেলিয়াল কলোনাইজেশনের জন্য রেখে দিতে হবে। এভাবে ২০থেকে ২৫ দিন রাখার পর মাইসেলিয়াম দ্বারা প্যাকেট পূর্ণ হবে যা পরবর্তীতে চাষ ঘরে ব্যবহূত হবে।
প্যাকেট কাটা: গ্যানোডার্মা মাশরুমের স্পন প্যাকেট বিভিন্নভাবে কাটা যায়। চাষ ঘরে প্যাকেট বসানোর আগে মাইসেলিয়াম পূর্ণ স্পন প্যাকেট হতে নেক, তুলা, ব্রাউন পেপার ইত্যাদি খুলে প্যাকেটের মুখ রাবার ব্যান্ড দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। কোণাযুক্ত প্যাকেটের একপাশে মাঝ বরাবর এক বর্গ সে.মি. আকারে পিপি কেটে ব্লেড দিয়ে সাদা অংশ চেঁছে ফেলতে হবে। এরপর চাষ ঘরের তাকে সারি সারি করে বসিয়ে দিতে হবে। স্পন প্যাকেট হতে নেক, তুলা, ব্রাউন পেপার ইত্যাদি খুলে প্যাকেটের মুখ খোলা রেখে দিয়েও মাশরুম চাষ করা যায়। চাষ ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের কৌশল থাকলে স্পন প্যাকেটের উপরের পুরো মুখ খুলে দিয়ে ও মাশরুম চাষ করা যেতে পারে।
পরিচর্যা: প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য দিনে ৩ থেকে ৪ বার মৃদু পানি সেপ্র করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কোনো অবস্থায় আর্দ্রতার পরিমাণ কমে না যায়। এভাবে পরিচর্যা করলে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই সাদা শক্ত মাসরুমের কুড়ি , ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আঙুলেরমত লম্বা হয়ে লালচে বর্ণের এবং ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রভাগ হাতের তালুরমত চ্যাপ্টাকৃতি ধারণ করবে। এই অবস্থায় চাষ ঘরের আলো ও বায়ু চলাচল বাড়িয়ে দিতে হবে।
মাশরুম সংগ্রহ: ঘরে বসানোর দের মাসের মধ্যেই মাশরুম সংগ্রহ করা যায়। পরিপক্ক ফ্রুটিং বডি সংগ্রহের উপযোগী লক্ষণ হল মাসরুমের কিনারার বৃদ্ধি থেমে গিয়ে চকচকে লাল বর্ণ ধারণ করে এবং অসংখ্য লালচে স্পোর নিচে পরতে দেখা যায়। পরিপক্ক ফ্রুটিং বডি তুলে নেওয়ার পরে প্যাকেটের কাটা স্থানে একটু চেঁছে দিলে খুব দ্রুত দ্বিতীয় বার ফলন পাওয়া যায়। এভাবে নিয়মিত পরিচর্যা করলে প্রতি প্যাকেট হতে ৩ থেকে ৪ বার ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি কেজি স্পন থেকে ৭০ থেকে ৯০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যায়।
সংরক্ষণ:
গ্যানোডার্মা মাশরুম সংগ্রহ করে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে রোদে শুকাতে হবে। এরপর পিপি ব্যাগে বা বোতলে ভরে বায়ুরোধী অবস্থায় ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়া স্লাইস বা পাউডার করেও অনেক দিন রাখা যায়। ৩.০-৩.৫ কেজি তাজা মাশরুম শুকালে ১ কেজি শুকনো ঋষি মাশরুম পাওয়া যায়।
ব্যবহার: মাশরুম পাউডার করে বা স্লাাইস করে কেটে পানিতে মৃদু তাপে জ্বাল দিয়ে মাশরুমের নির্জাস বের করে লেবুর রসসহ গরম-গরম অথবা ঠাণ্ডা করে খাওয়া যায়।
কাজু বাদাম- বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা
কাজু বাদাম- বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা । আমের আরেক ভাই কাজু বাদাম। খুবই সুস্বাস্থ্য একটি ফল। এক হাজার টাকা কেজি। ভারত প্রতি বছর কাজু বাদাম রপ্তানি করে হাজার হাজার ডলার আয় করছে। বাংলাদেশের জলবায়ু কাজু বাদাম চাষের উপযোগী হলেও খুবই মূল্যবান এ ফলটি চাষের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আমাদের পার্বত্য এলাকা ছাড়াও অন্যান্য জেলায় কাজু বাদামের চাষ করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। দেশীয় বাজারেও ওই বাদামের বেশ চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ২১ শতাংশ আমিষ, ৪৭ শতাংশ স্নেহজাতীয় পদার্থসহ অন্যান্য ভিটামিন থাকায় এটি স্বাস্থ্যসম্মত। কাজু বাদাম এমনি খেতে খুবই চমৎকার। এছাড়া মিষ্টি, ফিরনি-পায়েস, পোলাও-কোর্মার সঙ্গে স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ ভারত এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে কাজুর চাষ হয়। ওইসব স্থানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাগানের মতো কাজু বাদামের বিরাট বিরাট বাগান রয়েছে। ভারতে প্রথম পর্তুগিজরা ভূমিক্ষয় রোধ করার জন্য কাজু বাদামের চাষ শুরু করে। ব্রাজিল কাজু বাদামের আদি নিবাস। মাঝারি আকৃতির গাছে প্রচুর ফল হয়। চারা রোপণের ৪/৫ বছরের মধ্যে গাছে ফুল-ফল আসে। আম পাতার মতো কাজুর পাতা। তবে অভিনবত্ব হচ্ছে কাজুর ফল। এক গাছে দু'ধরনের ফল হয়। একটির নাম কাজু আপেল, অন্যটির নাম কাজু বাদাম। দুটি ফলই খাওয়া যায়। প্রথমে নরম তুলতুলে কাজু আপেল জন্মে। এই আপেলের মাথায় জন্মে কাজু বাদাম। কাজু আপেল সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়। অনেকে এর জুস খায়। আপেলের রঙ হয় হলুদ। পাকলে আপনাআপনি ঝরে পড়ে। আপেলের মাথায় বাঁকা ফলই কাজু বাদাম। বাদামের ওপরে মোটা সহজ রঙের খোসা থাকে। বিশেষ পদ্ধতিতে প্রয়োগ করে এর খোসা ছাড়িয়ে বের করা হয় কাজু বাদাম। আমি যশোরের চাঁচড়ায় ১০ বছর আগে ভারত থেকে সংগ্রহ করে একটি কাজু বাদামের চারা রোপণ করেছিলাম। পাঁচ বছর ধরে গাছটিতে নিয়মিত ফল হচ্ছে। এখন একটি গাছেই প্রতি বছর ১০-১২ কেজি ফল হয়। এর ফুল দেখতে বেশ সুন্দর। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ফুল আসে। যত্ন-আত্তির প্রয়োজন হয় না। বছরে একবার সার প্রয়োগ করা হলে ভালো ফল পাওয়া যায়। বীজ থেকে চারা হয়। তবে এখন গ্রাফটিং কলমের চারা বড় নার্সারিতে কিনতে পাওয়া যায়। কাজুর সমস্যা হচ্ছে ফল ছাড়ানো। ফলের ওপরের খোসা মোটা। এতে এক ধরনের তেল থাকে। তেল মূল্যবান। তবে তেল খাওয়া যায় না। অতি মূল্যবান ফসল কাজু বাদাম চাষের উদ্যোগ নেয়া হলে কৃষি ক্ষেত্রে আরেকটি বিশেষ ঘটনা ঘটবে।
দোতলা পদ্ধতিতে কৃষিকাজ দ্বিগুণ ফসল উৎপাদন
দোতলা পদ্ধতিতে কৃষিকাজ বর্তমানে দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি নষ্ট না করে এ পদ্ধতিতে দ্বিগুণ ফসল উৎপাদন করা যাবে এতে ফসল উৎপাদনের তেমন কোন হেরফের হচ্ছে না, বরং দ্বিগুণ উৎপাদনের কারণে কৃষক লাভবান হচ্ছে। আর এ পদ্ধতিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করলে উৎপাদন দ্বিগুণ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এ পদ্ধতিতে কৃষিজমি নষ্ট হয় না। ফসলের ক্ষেতে ছায়া পড়ার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই। সারাদিন রোদ ও বাতাস থাকলে মাচার নিচের ফসলের গায়েও তা লাগবে। ইতোমধ্যে গ্রামীণ শক্তি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করেআসছে।তাই এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে সোলার প্যানেল বসিয়ে সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধান উৎপাদনের চিন্তাকরছে সরকার। বর্তমানে সোলার পাম্প বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু যে পদ্ধতিতে কৃষিজমিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করা হচ্ছে তাতে অনেক জমি নষ্ট হচ্ছে। ফলে সে জমিতে অতিরিক্ত কোন ফসলের চাষ করা সম্ভব হয় না। কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, ধান ক্ষেতের ওপরে মাচা তৈরি করে দোতলা পদ্ধতিতে সহজেই লাউ কুমড়োর চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে মাচার নিচের ফসলের উৎপাদনের কোন হেরফের হচ্ছে না, বরং দ্বিগুণ ফসল উৎপাদন হচ্ছে। মাচার ফাঁক গলে যে আলো বাতাস আসে তা দিয়ে ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।
এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে সোলার প্যানেল বসিয়ে কৃষিজমিতে সেচের কথা জানিয়েছেন বিদ্যুত সচিব আবুল কালাম আজাদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করলে অতিরিক্ত কৃষিজমি নষ্ট না করেই ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। বিদ্যুত সচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ পদ্ধতিতে প্যানেল বসিয়ে প্যানেলের নিচে ফসল উৎপাদন করা যায় কি না তা গবেষণা করে বিদ্যুত উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে করে সেচের জমিতে প্যানেল বসালে যে জমি নষ্ট হয় তা অন্য কাজে বা ফসল উৎপাদনেরও ব্যবহার করা যাবে। জমি নষ্ট না করে কৃষিজমিতে প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করা হলে তাতে ফসলের উৎপাদনও অনেকগুণ বেড়ে যাবে।
দেশে দোতলা পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনের এ পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে তুলছেন বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর গবেষকরা। তাঁরা দেখিয়েছেন ধানের ক্ষেতে মাচা করে লাউ-কুমড়োর চাষ করা হলে তাতে নিচের ধান ক্ষেতে উৎপাদনে কোন সমস্যা নেই। গবেষণায় তাঁরা দেখিয়েছেন একটি ফাঁকা জমিতে যে পরিমাণ ধান উৎপাদন করা হচ্ছে, দোতলা পদ্ধতির চাষের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উৎপাদন হচ্ছে, বরং দোতলা পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে কৃষক অধিক লাভবান হচ্ছে। বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর মহাপরিচালক এমএ মতিন জানান, এ পদ্ধতিতে কৃষক ধান ক্ষেতের ওপরে লাউ-কুমড়োর চাষ করে অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকার ফসল উৎপাদন করতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পদ্ধতিতে যদি ফসলের উৎপাদন না কমে তাহলে একইভাবে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুত উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। দেশে সৌরবিদ্যুত নিয়ে কাজ করছে গ্রামীণ শক্তি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবহার জনপ্রিয় করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। গ্রামে যেখানে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি সেসব এলাকায় সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থায় তারা বিদ্যুত পৌঁছে দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সোলার হোম সিস্টেম ছাড়াও কৃষিজমিতে সোলার পাম্প বসিয়ে উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের সহায়তা দিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে সেচপাম্প। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে নওগাঁর সাপাহার এলাকায় একই পদ্ধতিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে তারা সবজি উৎপাদন ও ধান উৎপাদনে সহায়তা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প বিদ্যুত ব্যবহার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এমএ গোফরান। তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে ফসলের জমি নষ্ট না করেই উৎপাদন করা সম্ভব। দিনে রোদ থাকলে নিচের ফসলে ছায়া পড়ার সম্ভাবনা নেই। যেভাবেই হোক ফসলের গায়ে রোদ লাগবে। এতে করে ফসল উৎপাদনের তেমন কোন হেরফের হবে না। তিনি বলেন, গ্রামীণ শক্তি ইতোমধ্যে এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ধান ও সবজি একসঙ্গে উৎপাদন করছে।
এখন আর সোলার প্যানেলের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদ আলোকিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, কৃষি উৎপাদনে এখন সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। ইডকলের উদ্যোগের দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে সোলার সেচপাম্প। এর মধ্যে নওগাঁর সাপাহারে স্থাপন করা হয়েছে ১১.২ কিলোওয়াটের একটি সেচপাম্প, যা থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ লিটার পানি সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে। ইডকলের আর একটি সেচপাম্প স্থাপন করা হচ্ছে যশোরের বানিয়ালিতে। এর মাধ্যমে সাড়ে ২২ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়া সম্ভব হবে। ইডকলের গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, এসব সেচপাম্প প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সেচ বাবদ খরচ হওয়া বছরে ৮ হাজার লিটার ডিজেল সাশ্রয় হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌরবিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময় একটি দেশ। কারণ এখানে বছরে তিন শ’ দিনেরও বেশি রোদ থাকে। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভিত্তিতে সৌরবিদ্যুত নিয়ে কাজ করছে। ইনস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (ইডকল) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ সেক্টরে বিশ্বব্যাংক সামগ্রিক অর্থায়ন করছে। সরকারী মালিকানার এই প্রতিষ্ঠান সারাদেশে সৌরবিদ্যুত প্রসারের জন্য অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে। ১৫ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণের আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখের বেশি বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।ফলে গ্রামীণ জনপদে প্রায় এক কোটি লোক এখন সৌরবিদ্যুতের সুবিধা ভোগকরছে।সৌরবিদ্যুত ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করাহলে উৎপাদন দ্বিগুণ হতেপারে।তবে দেশে সৌরবিদ্যুতের জনপ্রিয়তা বাড়লেও এরদাম এখনও মানুষেরনাগালের বাইরে।গতকয়েক বছরে কিছুটা কমলেও এখনও তা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনা সম্ভব হয়নি।ডাউন পেমেন্ট বা কিস্তি সুবিধার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারে উৎসাহিত করাহচ্ছে।এখন পর্যন্তসোলার প্যানেলের সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে।অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে সৌরবিদ্যুতের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে।এখন বিভিন্ন কাজে এটিকে ব্যবহারের চিন্তভাবনা চলছে।
এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে সোলার প্যানেল বসিয়ে কৃষিজমিতে সেচের কথা জানিয়েছেন বিদ্যুত সচিব আবুল কালাম আজাদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করলে অতিরিক্ত কৃষিজমি নষ্ট না করেই ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। বিদ্যুত সচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ পদ্ধতিতে প্যানেল বসিয়ে প্যানেলের নিচে ফসল উৎপাদন করা যায় কি না তা গবেষণা করে বিদ্যুত উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে করে সেচের জমিতে প্যানেল বসালে যে জমি নষ্ট হয় তা অন্য কাজে বা ফসল উৎপাদনেরও ব্যবহার করা যাবে। জমি নষ্ট না করে কৃষিজমিতে প্যানেল বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করা হলে তাতে ফসলের উৎপাদনও অনেকগুণ বেড়ে যাবে।
দেশে দোতলা পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনের এ পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে তুলছেন বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর গবেষকরা। তাঁরা দেখিয়েছেন ধানের ক্ষেতে মাচা করে লাউ-কুমড়োর চাষ করা হলে তাতে নিচের ধান ক্ষেতে উৎপাদনে কোন সমস্যা নেই। গবেষণায় তাঁরা দেখিয়েছেন একটি ফাঁকা জমিতে যে পরিমাণ ধান উৎপাদন করা হচ্ছে, দোতলা পদ্ধতির চাষের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উৎপাদন হচ্ছে, বরং দোতলা পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে কৃষক অধিক লাভবান হচ্ছে। বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর মহাপরিচালক এমএ মতিন জানান, এ পদ্ধতিতে কৃষক ধান ক্ষেতের ওপরে লাউ-কুমড়োর চাষ করে অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকার ফসল উৎপাদন করতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পদ্ধতিতে যদি ফসলের উৎপাদন না কমে তাহলে একইভাবে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুত উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। দেশে সৌরবিদ্যুত নিয়ে কাজ করছে গ্রামীণ শক্তি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবহার জনপ্রিয় করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। গ্রামে যেখানে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি সেসব এলাকায় সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থায় তারা বিদ্যুত পৌঁছে দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সোলার হোম সিস্টেম ছাড়াও কৃষিজমিতে সোলার পাম্প বসিয়ে উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের সহায়তা দিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে সেচপাম্প। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে নওগাঁর সাপাহার এলাকায় একই পদ্ধতিতে সোলার প্যানেল বসিয়ে তারা সবজি উৎপাদন ও ধান উৎপাদনে সহায়তা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প বিদ্যুত ব্যবহার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এমএ গোফরান। তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে ফসলের জমি নষ্ট না করেই উৎপাদন করা সম্ভব। দিনে রোদ থাকলে নিচের ফসলে ছায়া পড়ার সম্ভাবনা নেই। যেভাবেই হোক ফসলের গায়ে রোদ লাগবে। এতে করে ফসল উৎপাদনের তেমন কোন হেরফের হবে না। তিনি বলেন, গ্রামীণ শক্তি ইতোমধ্যে এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ধান ও সবজি একসঙ্গে উৎপাদন করছে।
এখন আর সোলার প্যানেলের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদ আলোকিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, কৃষি উৎপাদনে এখন সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। ইডকলের উদ্যোগের দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে সোলার সেচপাম্প। এর মধ্যে নওগাঁর সাপাহারে স্থাপন করা হয়েছে ১১.২ কিলোওয়াটের একটি সেচপাম্প, যা থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ লিটার পানি সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে। ইডকলের আর একটি সেচপাম্প স্থাপন করা হচ্ছে যশোরের বানিয়ালিতে। এর মাধ্যমে সাড়ে ২২ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়া সম্ভব হবে। ইডকলের গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, এসব সেচপাম্প প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সেচ বাবদ খরচ হওয়া বছরে ৮ হাজার লিটার ডিজেল সাশ্রয় হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌরবিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময় একটি দেশ। কারণ এখানে বছরে তিন শ’ দিনেরও বেশি রোদ থাকে। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভিত্তিতে সৌরবিদ্যুত নিয়ে কাজ করছে। ইনস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (ইডকল) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ সেক্টরে বিশ্বব্যাংক সামগ্রিক অর্থায়ন করছে। সরকারী মালিকানার এই প্রতিষ্ঠান সারাদেশে সৌরবিদ্যুত প্রসারের জন্য অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে। ১৫ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণের আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখের বেশি বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।ফলে গ্রামীণ জনপদে প্রায় এক কোটি লোক এখন সৌরবিদ্যুতের সুবিধা ভোগকরছে।সৌরবিদ্যুত ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করাহলে উৎপাদন দ্বিগুণ হতেপারে।তবে দেশে সৌরবিদ্যুতের জনপ্রিয়তা বাড়লেও এরদাম এখনও মানুষেরনাগালের বাইরে।গতকয়েক বছরে কিছুটা কমলেও এখনও তা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনা সম্ভব হয়নি।ডাউন পেমেন্ট বা কিস্তি সুবিধার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারে উৎসাহিত করাহচ্ছে।এখন পর্যন্তসোলার প্যানেলের সবই বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে।অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে সৌরবিদ্যুতের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে।এখন বিভিন্ন কাজে এটিকে ব্যবহারের চিন্তভাবনা চলছে।
আফ্রিকার বাজারে চীনা গাড়ির উজ্জ্বল সম্ভাবনা
আফ্রিকার বাজারে চীনা গাড়ির উজ্জ্বল সম্ভাবনা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হওয়ার ফলে গাড়ি ক্রয়ের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে এবছর আফ্রিকার বাজারে মোট ১০ লাখ গাড়ি বিক্রি হবে এবং আগামী এক দশকের মধ্যে আফ্রিকার গাড়ি-শিল্প উন্নয়নের নবাগত শক্তি দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গে তুলনা করা যাবে। গাড়ি-শিল্পের এই অপার সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চীনের বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতমধ্যেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আফ্রিকায় গাড়ি উত্পাদন শুরু করেছে।
২০১১ সালে কেনিয়ায়, ফোটন গাড়ির উত্পাদন কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে আফ্রিকায় এ শিল্পের বানিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে চিলি আর মিশরের কোম্পানির সাথে গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা এবং মিশরে গাড়ি-সংযোজন কারখানা ও বিক্রির বিষয়ে সহযোগিতামূলক চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই হচ্ছে উত্তর আফ্রিকার বাজারে চীনের গাড়ি-শিল্প প্রবেশের প্রথম পর্যায়ের ইতিহাস। একই সালে চীন-আফ্রিকা উন্নয়ন তহবিল আর চীনের প্রথম-গাড়ি, হুয়াচেন, চেরি এবং উত্তরাঞ্চল-গাড়ি কোম্পানির মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতামূলক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চীনের উত্তরাঞ্চল-গাড়ি কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি ব্যবস্থাপক ওয়াং সিয়াও ছুন সংবাদদাতাকে জানান, আফ্রিকার বাজারে এই কোম্পানিটি যথেষ্ট আস্থা ও মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন,"আমরা মনে করি, আফ্রিকার বাজারে চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সুযোগ পাবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কেবল উত্তরাঞ্চলের গাড়ি নয়, চীনের অন্যান্য অঞ্চলের ভারি ও হালকা গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যথেষ্ঠ সাফল্য অর্জন করবে।"
জানা গেছে, চীনের ভারি ট্রাক প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর আফ্রিকার বাজারে রপ্তানির পরিমান ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চল-গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারি ট্রাক সংযোজন আর বিক্রয়ের কেন্দ্র স্থাপন করেছে।
এ প্রসঙ্গে ওয়াং সিয়াও ছুন বলেন, "চীনের গাড়ি বিশ্ব বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকান দেশগুলোর তুলনায় এ সকল দেশের বাজারগুলোকে দ্বিতীয় শ্রেণীর বাজার বলা যায়। তবে এ দেশগুলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরোপিত বিধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গ্যাস সরবরাহ সহ নানাবিধ শর্ত বিষয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রথম শ্রেণীর বাজারের চেয়ে অনেক নমনীয়। তুলনামূলকভাবে চীনা গাড়ির গুণগতমান উন্নত। এমনকি বাণিজ্যিক উত্পাদনের দিক দিয়ে ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ির তুলনায়ও চীন যথেষ্ট এগিয়ে আছে।"
চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে এজেন্টের মাধ্যমে প্রবেশের করে। এবং গত বছর থেকে উত্পাদন ও বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে পর্যায়ক্রমে সহজ ও উন্নত করা শুরু করেছে। পাশাপাশি আফ্রিকান দেশগুলোও বিদেশী পুঁজির ওপর দিন দিন গুরুত্ব আরোপ করছে। অনেক আফ্রিকান দেশ বিনিয়োগ-বান্ধব নানা সহায়তা-নীতি চালু করেছে। যেমন বিনিয়োগ অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করা, সহজ শুল্ক হার নির্ধারণ করা আর অবকাঠামোগত উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করা ইত্যাদি। এ সকল সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে চীনের বেশকিছু গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আফ্রিকায় তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সেখানে উত্পাদন শুরু করেছে।
উত্পাদনের দক্ষতা আর বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করে। ওয়াং সিয়াও ছুন বলেন, "চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আফ্রিকার বাজারে প্রবেশের সময় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চীনের নিজস্ব জাতীয় ব্র্যান্ড ব্যবহার করেছে। এখন চীনের প্রধান গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিদেশে নিজের ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা এবং তার মান সু-রক্ষার বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গাড়ির গুণগতমানের শ্রেষ্ঠত্ব সুরক্ষা করা; মূল্যমানে সহজলভ্যতা অর্জন করা; কার্যকর ব্যবসা-কৌশল গ্রহণ এবং আন্তর্দেশীয় বাণিজ্যিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে চীনের গাড়ি শিল্প আফ্রিকার বাজারে দ্রুত বিস্তার লাভ করতে সক্ষম।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হওয়ার ফলে গাড়ি ক্রয়ের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে এবছর আফ্রিকার বাজারে মোট ১০ লাখ গাড়ি বিক্রি হবে এবং আগামী এক দশকের মধ্যে আফ্রিকার গাড়ি-শিল্প উন্নয়নের নবাগত শক্তি দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গে তুলনা করা যাবে। গাড়ি-শিল্পের এই অপার সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চীনের বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতমধ্যেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আফ্রিকায় গাড়ি উত্পাদন শুরু করেছে।
২০১১ সালে কেনিয়ায়, ফোটন গাড়ির উত্পাদন কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে আফ্রিকায় এ শিল্পের বানিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে চিলি আর মিশরের কোম্পানির সাথে গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা এবং মিশরে গাড়ি-সংযোজন কারখানা ও বিক্রির বিষয়ে সহযোগিতামূলক চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই হচ্ছে উত্তর আফ্রিকার বাজারে চীনের গাড়ি-শিল্প প্রবেশের প্রথম পর্যায়ের ইতিহাস। একই সালে চীন-আফ্রিকা উন্নয়ন তহবিল আর চীনের প্রথম-গাড়ি, হুয়াচেন, চেরি এবং উত্তরাঞ্চল-গাড়ি কোম্পানির মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতামূলক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চীনের উত্তরাঞ্চল-গাড়ি কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি ব্যবস্থাপক ওয়াং সিয়াও ছুন সংবাদদাতাকে জানান, আফ্রিকার বাজারে এই কোম্পানিটি যথেষ্ট আস্থা ও মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন,"আমরা মনে করি, আফ্রিকার বাজারে চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সুযোগ পাবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কেবল উত্তরাঞ্চলের গাড়ি নয়, চীনের অন্যান্য অঞ্চলের ভারি ও হালকা গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যথেষ্ঠ সাফল্য অর্জন করবে।"
জানা গেছে, চীনের ভারি ট্রাক প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর আফ্রিকার বাজারে রপ্তানির পরিমান ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চল-গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারি ট্রাক সংযোজন আর বিক্রয়ের কেন্দ্র স্থাপন করেছে।
এ প্রসঙ্গে ওয়াং সিয়াও ছুন বলেন, "চীনের গাড়ি বিশ্ব বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকান দেশগুলোর তুলনায় এ সকল দেশের বাজারগুলোকে দ্বিতীয় শ্রেণীর বাজার বলা যায়। তবে এ দেশগুলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরোপিত বিধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গ্যাস সরবরাহ সহ নানাবিধ শর্ত বিষয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রথম শ্রেণীর বাজারের চেয়ে অনেক নমনীয়। তুলনামূলকভাবে চীনা গাড়ির গুণগতমান উন্নত। এমনকি বাণিজ্যিক উত্পাদনের দিক দিয়ে ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ির তুলনায়ও চীন যথেষ্ট এগিয়ে আছে।"
চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে এজেন্টের মাধ্যমে প্রবেশের করে। এবং গত বছর থেকে উত্পাদন ও বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে পর্যায়ক্রমে সহজ ও উন্নত করা শুরু করেছে। পাশাপাশি আফ্রিকান দেশগুলোও বিদেশী পুঁজির ওপর দিন দিন গুরুত্ব আরোপ করছে। অনেক আফ্রিকান দেশ বিনিয়োগ-বান্ধব নানা সহায়তা-নীতি চালু করেছে। যেমন বিনিয়োগ অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করা, সহজ শুল্ক হার নির্ধারণ করা আর অবকাঠামোগত উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করা ইত্যাদি। এ সকল সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে চীনের বেশকিছু গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আফ্রিকায় তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সেখানে উত্পাদন শুরু করেছে।
উত্পাদনের দক্ষতা আর বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করে। ওয়াং সিয়াও ছুন বলেন, "চীনের গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আফ্রিকার বাজারে প্রবেশের সময় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চীনের নিজস্ব জাতীয় ব্র্যান্ড ব্যবহার করেছে। এখন চীনের প্রধান গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিদেশে নিজের ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা এবং তার মান সু-রক্ষার বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গাড়ির গুণগতমানের শ্রেষ্ঠত্ব সুরক্ষা করা; মূল্যমানে সহজলভ্যতা অর্জন করা; কার্যকর ব্যবসা-কৌশল গ্রহণ এবং আন্তর্দেশীয় বাণিজ্যিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে চীনের গাড়ি শিল্প আফ্রিকার বাজারে দ্রুত বিস্তার লাভ করতে সক্ষম।
পশ্চিম আফ্রিকায় পণ্য রফতানি ও কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে
পশ্চিম আফ্রিকায় পণ্য রফতানি ও কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে
কূটনৈতিক রিপোর্টার : পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস জানিয়েছেন, পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঘানা, লাইবেরিয়া, আইভরিকোস্ট ও সেনেগালে বাংলাদেশী পণ্য রফতানির যেমন বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে তেমনি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ফার্ম এসব দেশে বিপুল পরিমাণ উর্বর জমি লীজ নিয়ে কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে পারে।
সম্প্রতি এসব দেশ ঘুরে এসে এসব সম্ভাবনার কথা জানাতে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজন করা হয় এক প্রেস ব্রিফিং এর। প্রেস ব্রিফিং-এ পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও তার অন্যান্য সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার অংশ হিসেবে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালে মাত্র ৭ কোটি মানুষ ছিল। তখন বাংলাদেশ খাদ্যে ছিল পরনির্ভর। বর্তমানে ১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ প্রায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই বিষয়টি পশ্চিম আফ্রিকায় বাংলাদেশকে নিয়ে একটি বিস্ময়ের ব্যাপার। তাদের মতে বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনে অনেক এগিয়ে গেছে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়। এজন্য কৃষি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে তারা খুবই আগ্রহী। তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাবে তারা জমি লীজ দিতে রাজী আছে। এখন কিছু ফার্ম তৈরীর মাধ্যমে জমি লীজ নিয়ে চাষাবাদ করে ফসল উৎপাদন সম্ভব। এর মাধ্যমে তখন বিপুল জনশক্তিও রফতানি হবে।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, ধান, তুলা, কোকো, রাবার, বাদাম জাতীয় ফসল, কফিসহ নানা জাতীয় কৃষি পণ্য উৎপাদন করার উপযোগী লাখ লাখ একর উর্বর জমি রয়েছে এসব দেশে। ফার্মিং স্কিমের মাধ্যমে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
এক প্রশ্নের জবাবে মিজারুল কায়েস বলেন, এসব দেশে সরাসরি জনশক্তি রফতানির বিষয়টি বেশ স্পর্শকাতর। কারণ খৃস্টান ও মুসলমানদের সংখ্যার যে ভারসাম্য রয়েছে সেখানেই সমস্যা। বাংলাদেশ থেকে অধিক জনশক্তি এসব দেশে রফতানি হলে তারা মনে করবে যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য কৌশলে কৃষি, ঔষধসহ বিভিন্ন সেক্টরে আমাদের সংশ্লিষ্টতা বাড়াতে ঐসব সেক্টরে লোক পাঠানো যেতে পারে। ঐসব দেশে ভৌত অবকাঠামোর বেশ সংকট। আমরা এসব খেত্রে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারি।
বিদেশে বাংলাদেশী চাষিদের বর্গা চাষের সম্ভাবনা
বিদেশে বাংলাদেশী চাষিদের বর্গা চাষের সম্ভাবনা
কামাল শাহরিয়ার : পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা, লাইবেরিয়া, সেনেগাল, আইভরিকোস্ট এর সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে জাতিগত সংঘাতে বিপন্ন দেশগুলোতে বাংলাদেশের সেনা সদস্যরা কাজ করার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। কৃষি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে বিস্তীর্ণ জমি পতিত পড়ে থাকে বছরের পর বছর। তারা নানা কারণেই এসব জমি আবাদ করতে সমর্থ হচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে আমাদের দেশে যেমন একজন বর্গাচাষি অন্যের জমি চুক্তি নিয়ে চাষাবাদ করতে পারে। তেমনি দেশেও এ ধরনের বর্গাচাষ পদ্ধতি প্রবর্তিত হতে পারে। ইতোমধ্যেই এ ধরনের সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে যেহেতু আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে তাই বাংলাদেশি কৃষকদের ঐ দেশগুলোতে পাঠিয়ে তাদের পতিত জমি চাষের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব ক’দিন আগে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলো বাংলাদেশের কৃষকদের দিয়ে তাদের পতিত জমি আবাদ করানোর ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যেই আমেরিকার কোনো কোনো ফার্ম দক্ষিণ আফ্রিকায় এ ধরনের বর্গা চাষ শুরু করেছে। তবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সরকার বাংলাদেশের নিকট থেকে এ ধরনের সহযোগিতা লাভে অত্যন্ত আগ্রহী। বাংলাদেশ এই সুযোগ গ্রহণে আগ্রহী। সম্প্রতি পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডং মিশন’ গত ২৪ আগষ্ট হতে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আফ্রিকার ৪টি দেশ সফর করেন। এসময় তারা সে দেশের কৃষি খাতে বাংলাদেশি কৃষকদের সহায়তার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ভিত্তিক আলোচনা করেন। এতে দেশগুলো ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। কাজেই আগামীতে বাংলাদেশি কৃষকরা দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে সে দেশের পতিত জমি চাষ করবে এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আগামীতে প্রতিনিধি দল ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার আরো কিছু দেশ সফর করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ইচ্ছে করলেই এসব দেশে বিনিয়োগ করতে পারে। পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাও বেশ উজ্জ্বল। বর্তমানে চীন ও ভারত এসব দেশে ব্যাপক হারে পণ্য রপ্তানি করছে। বাংলাদেশ ইচ্ছে করলেই এসব দেশে পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নিতে পারে। অর্থাৎ আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সেনা সদস্যরা আফ্রিকার অনেক দেশেই শান্তি মিশনে কাজ করছে। এ ছাড়া ব্র্যাকের উদ্যোগে আফ্রিকার কোনো কোনো দেশে সামাজিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এসব কার্যক্রম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে। সংঘাতে বিপর্যস্ত এসব দেশ বাংলাদেশের সেনা সদস্যদের অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। এক সময় এসব দেশের সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের নামটিও জানতো না। আজ আর সে অবস্থা নেই। এখন কোনো কোনো দেশে বাংলাকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন স্থানের নাম বাংলাদেশের নামে নামকরণ করা হচ্ছে। এসবই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতি তাদের ভালবাসার বহি:প্রকাশ। দেশগুলোর জনগণ আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে অত্যন্ত আগ্রহী।
বিশেষ করে বাংলাদেশের চাষিদের আফ্রিকায় বিভিন্ন দেশে জমি বর্গা চাষের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে। আফ্রিকার দেশগুলো খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। তারা চাষাবাদের ক্ষেত্রে তেমন একটা অভিজ্ঞ নয়। অন্য দিকে বাংলাদেশের কৃষকদের যে কোনো ধরনের জমি চাষের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করা যেতে পারে। বাংলাদেশের কৃষকদের জমি চাষের অভিজ্ঞতা আফ্রিকার কৃষকদের জন্য বিস্ময়ের ব্যাপার। বাংলাদেশের কৃষকদের বর্গচাষের অভিজ্ঞতাও বিস্ময়কর। আমাদের এখানে মোট আবাদি জমির প্রায় ৪০ শতাংশই বর্গাচাষিদের দ্বারা চাষ করানো হয়। বর্গা চাষিদের রয়েছে নানা সমস্যা। সবচেয়ে অমানবিক ব্যাপার হচ্ছে বর্গা চাষিরা জমি আবাদকালীন সমস্ত ব্যয়ভার বহন করে। কোথাও কোথাও জমির মালিক শুধু মালিকানা সূত্রে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক পেয়ে থাকে। তাদের কোনো দায়িত্ব বহন করতে হয় না। এতে বর্গা চাষিদের উপর অত্যন্ত চাপ পড়ে। বিভিন্ন সময় আমাদের দেশে তে-ভাগা আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তে-ভাগা আন্দোলনের মূল কথাই হচ্ছে বর্গা চাষি যদি জমির উৎপাদন ব্যয়ের পুরোটাই বহন করে তাহলে ফসল তিন ভাগ হবে। এর মধ্যে দুই ভাগ পাবে বর্গাচাষি। এবং এক ভাগ পাবেন জমির মালিক। অথবা উৎপাদন ব্যয়ের অর্ধেক মালিককে বহন করতে হবে এবং ফসল দুই ভাগ হবে। এটা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বর্গা চাষিদের কৃষি ঋণের আওতায় নিয়ে এসেছে। এটা একটি চমৎকার উদ্যোগ। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে কোনো বর্গা চাষ
আফ্রিকার চার দেশে বাংলাদেশের বড় ধরনের রপ্তানি
আফ্রিকার চার দেশে বাংলাদেশের বড় ধরনের রপ্তানি 08 Mar, 2013
আফ্রিকার চার দেশ মরক্কো, নাইজেরিয়া, সেনেগাল ও সিয়েরালিওনে বাংলাদেশের বড় ধরনের রপ্তানি সম্ভাবনার তথ্য তুলে ধরে দেশ চারটির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের অনুরোধ করেছে মরক্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাস। মরক্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মো. লুৎফর রহমান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন, এ চার দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করা হলে বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক বাড়বে।
এ চার দেশ ছাড়াও নিজেদের মধ্যে পুঁজি বিনিয়োগের জন্য আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তি করবে বাংলাদেশ। 'দ্বিপাক্ষীয় পুঁজি বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ' শীর্ষক ওই চুক্তি অনুযায়ী, একটি দেশ অন্য দেশটিতে পুঁজি বিনিয়োগ করলে ওই দেশের বিনিয়োগকারীদের মতোই সুযোগ সুবিধা পাবে। এমন শর্ত রেখে চুক্তির একটি খসড়া তৈরি করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়।
পশ্চিম এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের মধ্যবর্তী একটি দেশ আজারবাইজান মূলত তেলনির্ভর অর্থনীতি। দেশটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় প্রণীত খসড়ায় বলা হয়েছে, দুই দেশ নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিজেদের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তেমনি ওই বিনিয়োগগুলো সংরক্ষণও করা প্রয়োজন। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে বেসরকারি খাতের উদ্যোগ প্রয়োজন। তেমনি সরকারেরও উদ্যোগ প্রয়োজন। খসড়ায় বলা হয়েছে, দুই দেশ নিজেদের মধ্যে পুঁজি বিনিয়োগের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে। চুক্তি করা দেশগুলো নিজেদের মধ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মতোই সুযোগ-সুবিধা দেবে। যুদ্ধ, সংঘাত ইত্যাদির কারণে বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মতো সমান আচরণ করা হবে। দেশ দুটি নিজ দেশে অন্য দেশটির বিনিয়োগকে উচ্ছেদ বা জাতীয়করণ বা অন্য কোনো ধরনের কাজ করবে না যাতে জাতীয়করণের প্রভাব পড়ে। বিনিয়োগ দেশে ফিরিয়ে আনা বা মুনাফা ফিরিয়ে আনতে সুরক্ষা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে চুক্তির খসড়ায়।
বাংলাদেশের সঙ্গে আজারবাইজানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই বললেই চলে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের গবেষণা সেল জানায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশ আজারবাইজান থেকে কোন পণ্য আমদানি করেনি। তবে ৩২ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে ৩১ হাজার ডলারের পাটজাত পণ্য। বাকি পণ্য নারী-পুরুষের অন্তর্বাস।
বাংলাদেশে অনেক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ আছে। এখানে বেশ কিছু খাত বিকাশ লাভ করেছে।
দেশটির আয়তন ৮৬ হাজার বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ৯৬ লাখের কাছাকাছি। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের আকার ৯৩ বিলিয়ন ডলার (২০১১)। ওই দেশের ১১ শতাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। আজারবাইজানের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ তেলের ভাণ্ডার।
অর্থনীতির আকার ও আরো কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে আছে আজারবাইজান। ইনডেক্সমুঁডির তথ্য মতে, ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৯৩ বিলিয়ন ডলার (২০১১)। সেখানে বাংলাদেশের জিডিপির আকার ২৮২ বিলিয়ন ডলার। দেশটির দেশজ উৎপাদনের ১৭ শতাংশ বিনিয়োগ হয়। বাংলাদেশের হয় প্রায় ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি চার শতাংশ। আজারবাইজানের প্রায় ১৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এর দেওয়া তথ্য মতে, এক হাজার ডলার মাথাপিছু আয়ের মরক্কো প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফেব্রিক, তৈরি পোশাক, ওষুধ, মোটরসাইকেল, আইটি পণ্য, বৈদ্যুতিক তার, ব্যাটারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চা, আম, আনারস ও নারিকেল আমদানি করে থাকে। দেশটিতে বাংলাদেশি পাট, ফেব্রিক্স, ওষুধ, তৈরি পোশাক, খাদ্য-পানীয় রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল মরক্কোয় রপ্তানির সম্ভাবনা দেখতে দেশটি ঘুরে এসেছেন। দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তুরস্ক ও মিসরের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। ফলে এসব দেশের পণ্যই বেশি আমদানি হয়। বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের রপ্তানিকারকদের মরক্কোয় পণ্য রপ্তানি করতে গেলে ৭৯ শতাংশ শুল্ককর পরিশোধ করতে হয়। আর যেসব দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে সেসব দেশের ক্ষেত্রে শুল্ককর দিতে হয় মাত্র ২০ শতাংশ। অসম প্রতিযোগিতার কারণে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি দিন দিন কমে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশি তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এইচঅ্যান্ডএম, গ্যাপ ও নেক্সট ইত্যাদি কম্পানির মাধ্যমে মরক্কোতে রপ্তানি হচ্ছে। উচ্চ শুল্কহারের কারণে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় দেশটির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হলে বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক বাড়বে।
নাইজেরিয়া সরকার সম্প্রতি তৈরি পোশাক আমদানির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় তা বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ বলে উল্লেখ করেছেন লুৎফর রহমান। তিনি বলেছেন, তৈরি পোশাক ছাড়াও নাইজেরিয়া ওষুধ, পাট, সিরামিক, স্যানেটারি ওয়্যার, চামড়া, প্রক্রিয়াজাতকরণ খাদ্য, তামাক ও জুতা রপ্তানির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সাড়ে ১৫ কোটি জনসংখ্যার এ দেশের মাথাপিছু আয় ২৬০০ ডলার। ফলে নাইজেরিয়ার বাজার বিশাল। অন্যদিকে সেনেগালেও বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক, চামড়া, রাবার, ইলেকট্রিক্যাল ও হাল্কা প্রকৌশল সামগ্রী ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে
উগান্ডায় কৃষিখাতে বিনিয়োগে সরকারের সহায়তা চায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা
উগান্ডায় কৃষিখাতে বিনিয়োগে সরকারের সহায়তা চায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা
ঢাকা: দেশের ঘাটতি মিটিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আফ্রিকার উগান্ডায় ধান চাষে বিনিয়োগ করতে চায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। এ জন্য তারা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেছেন।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ-আফ্রিকা বিজনেস অর্গানাইজেশন (বিএবিও) ব্যবসায়ী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উগান্ডায় কৃষিখাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি ও দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ।
তিনি বলেন, আফ্রিকায় ধান ও গমের উৎপাদন খরচ তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। সেখানে প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে খরচ হবে ১২ থেকে ১৪ টাকা। আর গমের প্রতি কেজিতে খরচ পরবে ১০ টাকা। উৎপাদিত ধানের ২০ শতাংশ পাবে উগান্ডা সরকার। আর বাকি ৮০ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, কৃষিকাজে যেসব শ্রমিক নিয়োগ করা হবে তার ১০ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে নেওয়া হবে। বাকি ৯০ শতাংশ শ্রমিক থাকবে উগান্ডার নাগরিক। উৎপাদন ব্যয় বাদে ১০ শতাংশ লাভ ধরে উৎপাদিত ফসল বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া হবে। সরকার ওই ধান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াতে পারবে। পরবর্তীতে উগান্ডা কিংবা অন্য কোন দেশে কৃষিখাতে বিনিয়োগ করতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে আমরা ব্যবসায়ীরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে উগান্ডায় কৃষিকাজে বিনিয়োগ করতে চাই। ব্যবসায়িক স্বার্থের চেয়ে দেশের খাদ্য ঘাটতি মেটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বিদেশে কৃষিখাতে বিনিয়োগের অনুমতি না থাকায় এটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা আশা করছি সরকার খুব শিগগিরই আফ্রিকায় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয় অনুমতি দেবে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘আফ্রিকার দেশ উগান্ডার সরকার এ ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার অনুমতি না দিলে এ প্রকল্প সফল হবে না।’
লিখিত বক্তব্যে মাতলুব আহমাদ আরো বলেন, বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের রয়েছে তিক্ত অভিঞ্জতা। সরকার আন্তরিক থাকার পরও সময় মতো চাল আমদানি হয় না। তাই আমাদের নিজেদেরকেই উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে।
মাতলুব আহমাদ বলেন, অনুসন্ধানে আমরা দেখেছি, আফ্রিকায় কৃষি খাতে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। যে সুযোগটি পৃথিবীর অনেক দেশ ব্যবহার করছে। উগান্ডার সরকার সেদেশে কৃষিখাতে বিনিয়োগের জন্য সাদর সম্ভাষণ জানিয়েছে। তাই আমরা এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি আবুল কাশেম আহমেদ, সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য মাহবুব ইসলাম রুনু, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক সাফকাত হায়দার ও ঢাকায় নিযুক্ত উগান্ডার অনারারি কনসাল জেনারেল আবুল হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উগান্ডায় ধান চাষে করছে এমন একজন মাহমুদ হাসান বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আমরা চার বন্ধু সেখানে ১২০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষ করছি। কিন্তু সেখানে কৃষিকাজে বিনিয়োগে বাংলাদেশ সরকারের স্বীকৃতি নেই। তাই উৎপাদিত ধান বাংলাদেশে দিতে পারছিনা।
তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের উগান্ডায় বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উগান্ডার কনসাল জেনারেল আবুল হোসেন বলেন, উগান্ডায় বিনিয়োগ অনেক দেশের চেয়ে নিরাপদ। সেখানে কোন রাজনৈতিক সহিংসতা নেই। দুর্নীতিও কম। ফলে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করলে রিটার্ন পাবেন। উগান্ডার সরকার এব্যাপারে সব ধরনের সহায়তা দিতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।
আফ্রিকার কৃষি খাতে বাংলাদেশী বিনিয়োগের সম্ভাব
আফ্রিকার কৃষি খাতে বাংলাদেশী বিনিয়োগের সম্ভাব
পশ্চিম আফ্রিকার আইভরিকোষ্ট দেশটি আয়তনে বাংলাদেশের দ্বিগুনের ও একটু বেশী হলেও জনসংখ্যা মাত্র ৩ কোটি । প্রতি বর্গ কিলোমিটারে মাত্র ৩৯ জন লোকের বসবাস । আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত হওয়া স্বত্বেও দেশটি সবুজে শ্যামলে ঘেরা । এদেশের পরিবেশ , জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতির সাথে বাংলাদেশের বেশ সাদৃশ্য রয়েছে । শুধুমাত্র মানুষের গায়ের রং আর বেশভূষা দেখেই বোঝা যায় এটা আফ্রিকা । এ বিশাল দেশটিতে রয়েছে অজস্র বনজ আর খনিজ সম্পদের সমাহার । পাশাপাশি রয়েছে মাইলের পর মাইল বিস্তীর্ণ অনাবাদী কৃষিজমি । ১৯৬০ সালে দেশটি ফরাসী উপনিবেশ হতে স্বাধীনতা প্রাপ্ত হয় । স্বাধীনতার পর প্রথম প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স হুফে বাউনির নেতৃত্বে ১৯৬০ – ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দেশটিতে নিরবছিন্ন শান্তি বিরাজমান ছিল এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সম্রিধ্বি ও লাভ করেছিল তখন । ১৯৮৭ সালে আইভরিকোষ্টের মোট জি ডি পি র ৩৫% এবং মোট রপ্তানি আয়ের ৬৬% এসেছিল কৃষি খাত থেকে । দেশে মোট স্বাবলম্বী জনসংখ্যার তিন ভাগের দুই ভাগ কৃষি খাতে নিয়োজিত ছিল । ১৯৬৫ – ১৯৮০ সাল পর্যন্ত এ দেশের রপ্তানি আয়ের ৫০% ই এসেছে কফি , কোকো আর টিম্বার হতে । কিন্তু ১৯৯৯ সালে রবার্ট গুয়ে কর্তৃক সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটি তে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছিল তার রেশ কাটেনি আজও । ফ্রান্সের কলোনিজম থেকে বহু বছর আগে মুক্তি পেলেও ফরাসী রা এখনও এদেশের ঘাড়ে চেপে রয়েছে সিন্দাবাদের ভূতের মত । বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলাসান ওয়াতারার শ্বশুর বাড়ি ফ্রান্সে হবার সুবাদে এদেশে উৎপাদিত কফি , কোকো , রাবার , টিম্বার সহ সোনা , হীরা ইত্যাদি যাবতীয় খনিজ সম্পদের সিংহ ভাগ চলে যায় ফ্রান্সে । শুনেছি চুক্তি অনুযায়ী আইভরিকোষ্ট ১০% পায় , আর বাকিটা নিয়ে যায় ফরাসীরা । কি অদ্ভুত বৈষম্য ! অথচ সামান্য খাবারের আশায় কত গরিব আইভরিয়ান কে দেখেছি হাতে আনারস , আম , পেঁপে , কলা ইত্যাদি ফল হাতে নিয়ে আমাদের দিকে তীর্থের কাকের মত চেয়ে থাকতে । এ সবের বিনিময়ে সে পেতে চায় বিস্কুট ভাত , মুরগীর চামড়া কিংবা আটা । আমাদের দেখলেই ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় তারা বলতে থেকে -”মনামি(মানে বন্ধু) , মিষ্টি আনারস আছে , কাঁচা মরিচ আছে , বিস্কি লাগবে বিস্কি ” বিস্কুট এদের অত্তাধিক প্রিয় খাবারের একটি । হুট করে মনে পড়ে গেল , এ ফরাসীরা তো এক সময় দোর্দণ্ড প্রতাপে ভারতীয় উপমহাদেশ ও শাসন করেছিল ।
বর্তমানেও আইভরিকোষ্টের মুষ্টিমেয় জন গোষ্ঠীর পেশা কৃষি । কফি , কোকো , রাবার এদের মূল অর্থকরী ফসল হলেও এদেশে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য শস্য উৎপাদিত হয় । যেমন ধান ,গম , ভুট্টা , আখ , মরিচ , ইয়াম , কাসাবা (আলু জাতীয় ফসল ) , মিষ্টি আলু , কাজু বাদাম , পিনাট , সরগাম , শ্যালট ইত্যাদি । এছাড়া এদেশে তুলা , কলা , আম , আনারস ইত্যাদির ব্যাপক ফলন হয়ে থাকে । আটলান্তিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত বিধায় এখানে নারিকেল এবং পাম চাষের ও রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা । কিন্তু দুঃখের বিষয় , রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারনে দেশ টীতে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসেনি । খাদ্য উৎপাদনেও দেশটি হতে পারেনি স্বয়ং সম্পূর্ণ । অথচ এদেশের ভূপ্রকৃতি , জলবায়ু , সাশ্রয়ী শ্রম মূল্য সবই রয়েছে কৃষি বাণিজ্যের অনুকূলে । পরিবেশ ও ভু প্রাকৃতিক সাদৃশ্য থাকায় বাংলাদেশে উৎপাদিত প্রায় সব ধরনের অর্থকরী ফসল , খাদ্যশস্য , শাক -সবজি সবই এদেশে ফলানো সম্ভব । আইভরিয়ান রা বাড়ির আশেপাশে অল্প পরিসরে ডাল , ভুট্টা , কলা , কাসাবা , ইয়াম সহ সব ধরনের শাক – সব্জির আবাদ করে থাকে । ফলন ও হয় প্রচুর । জমি উর্বর বিধায় রাসায়নিক সারের তেমন দরকার পড়েনা । এদেশে ঘাস , লতাপাতা , বন – জঙ্গলের আধিক্য থাকায় এগুলিকে বৈজ্ঞানিক পদ্বতিতে পচিয়ে কমপোষ্ট সার তৈরি করে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসাবে ব্যাবহার করা যায় । আর ফসলের রোগ বালাই দমনে এদেশে কীটনাশকের প্রয়োজন হয় কম । কারন , এদেশের পোকা মাকড় , কীট পতঙ্গ সমূহ কীটনাশকের প্রতি অতি মাত্রায় সংবেদনশীল । বাংলাদেশে আজকাল এরোসল স্প্রে করলেও কোন মশা মরেনা । অথচ সামান্য স্প্রে তে আইভরিয়ান মশা কিভাবে কুপোকাত হয় তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবেনা । আইভরিকোষ্টের জনগন শারীরিক ভাবে বাংলাদেশী দের তুলনায় অনেক বেশী কষ্ট সহিষ্ণু ও কর্মঠ । এ পরিশ্রমী জনগোষ্ঠী কে সঠিক ভাবে কৃষি ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারলে খাদ্য শস্য উৎপাদনে আশানুরুপ ফলাফল লাভ সম্ভব । তাছাড়া শ্রম মূল্য সাশ্রয়ী বিধায় এদেশে ফসল উৎপাদন ব্যয় ও হবে তুলনা মূলক ভাবে কম ।
এখন আমাদের ভাবতে হবে আফ্রিকার এ সম্ভাবনা ময় খাতে বিনিয়োগ করে কিভাবে সর্বচ্চ সুফল পাওয়া যায় । প্রথমে সরকারি পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে কৃষি জমি লীজ সংক্রান্ত বিষয়ে আইভরিয়ান সরকারের নীতিগত অনুমোদন নিতে হবে । জমি লীজের অনুমোদন প্রাপ্তির পর কৃষি মন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করতে হবে । এ কমিটির কাজ হবে আইভরিকোষ্টের কৃষি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাই করে বিনিয়োগের বিস্তারিত রূপরেখা প্রণয়ন করা । এ কমিটি তে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ব বিদ্বালয় , কৃষি গবেষণা ইন স্ট ি টিউট সহ কৃষি অধিদপ্তরের যোগ্য ও মেধাবী কৃষি বিদদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে । তারা প্রয়োজনে আইভরিকোষ্টের পরিবেশ , জলবায়ু , সয়েল টেস্ট ইত্যাদি পর্যালোচনা করে যে সকল ফসল বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ লাভজনক হবে তা নির্ধারণ করে সরকারের নিকট সুপারিশ করবেন । উৎপাদিত ফসল যদি ৫০-৫০ হারে বণ্টনের চুক্তি ও করা হয় তাতেও বাংলাদেশ লাভবান হবে । যে জাতি ফ্রান্সের সাথে ১০%-৯০% চুক্তি করতে পারে তাদের কাছে ৫০%-৫০% প্রস্তাব নিশ্চয়ই লোভনীয় হবে । সরকার চাইলে নীতিমালা করে এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ কেও উৎসাহিত করতে পারে । তখন BRAC ,PROSHIKA সহ অন্যান্য আগ্রহী এন জি ও আইভরিকোষ্টের কৃষি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে তাদের কৃষি বাণিজ্য কে সম্প্রসারিত করতে পারবে । বিনিময়ে আয় হবে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা । বর্তমান আর্থ- সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে কৃষি ক্ষেত্রে Out sourcing উপেক্ষা করার মত কোন বিষয় নয় । খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষে দেশে উচ্চ ফলনশীল Hi breed খাদ্য শস্য চাষাবাদ সহ সরকারী পর্যায়ে ন্যায্য মূল্যে কৃষকের উৎপাদিত ফসল ক্রয় করে তাকে মুনাফাখোর মধ্যস্বত্ব ভোগীদের হাত থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি আফ্রিকার উর্বর , অনাবাদী , কৃষি জমিতে চাষাবাদের বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল সক্রিয় বিবেচনায় রাখলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছানো অবশ্যই সম্ভব । তবেই আমরা দেশের সার্বিক পরিবর্তন ঘটাতে পারব ।জাতি হিসাবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো । গর্ব ভরে বলতে পারবো দেশে কোন খাদ্য ঘাটতি নেই – দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ্র।
বাংলাদেশের আফ্রিকা মিশন - কৃষি বিনিয়োগ ও জনশক্তি
বাংলাদেশের আফ্রিকা মিশন: কৃষি বিনিয়োগ ও জনশক্তি
প্রবাসীপত্র ডেস্ক: ২০১২ সালের শুরুতে আফ্রিকার পাঁচটি দেশে মিশন স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আফ্রিকার পাঁচটি দেশে কৃষি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনায় মিশনগুলো দ্রুত স্থাপনের ব্যাপারে অগ্রগতি হয়েছে। দেশগুলো হল- এঙ্গোলা, বতসোয়ানা, নাইজেরিয়া, সুদান ও মরিশাস।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা ডেস্কের মহাপরিচালক এম ওয়াহিদুর রহমান বলেন, আফ্রিকার কৃষি খাতে বিনিয়োগ সুবিধা ও জনশক্তি খাতকে শক্তিশালী করতে নতুন মিশন স্থাপনের বিষয়টি দ্রুত ভেবে দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আফ্রিকার এঙ্গোলা ও বতসোয়ানায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। মিশন স্থাপনের মাধ্যমে তৈরি পোশাকের বাজার সৃষ্টি করলে দেশ দুটিতে বাংলাদেশী পণ্যের বিশাল বাজার তৈরি হবে। জানা গেছে, এই দেশ দুটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে দুধ ও দুধজাত দ্রব্য, হিমায়িত খাদ্য, সংরক্ষিত মাংস, আম, কলা ইত্যাদি পণ্য আমদানি করে থাকে। মিশন স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি পণ্য রপ্তানিতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ জনশক্তি রফতানি উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সুদানে জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে একটা সম্ভাবনাময় দেশ। দেশটির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ শক্তিশালী হলে জনশক্তি রফতানিতে সহায়ক হবে।
আফ্রিকা ডেস্কের মহাপরিচালক জানান, আফ্রিকায় বিনিয়োগ বাড়াতে দেশগুলো বাংলাদেশের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহে কঙ্গোর একটি প্রতিনিধি দল এ ব্যাপারে ঢাকায় আসছে। তাছাড়া কেনিয়া থেকেও প্রতিনিধি দল পাঠানোর জন্য বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। অক্টোবর মাসেই একটি প্রতিনিধি দল আফ্রিকায় বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করতে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
আফ্রিকা ডেস্কের মহাপরিচালক জানান, আফ্রিকার দেশগুলোর অবস্থা অর্থনৈতিকভাবে আগের চেয়ে ভালো হয়ে উঠছে। প্রতি বছর আফ্রিকায় বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা বাড়ছে । এ অবস্থায় আফ্রিকার কৃষি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রসারের ব্যাপারে কাজ শুরু হয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে বিনিয়োগ করে সহজে লাভবান হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে বিশাল মহাদেশ আফ্রিকার মাত্র পাঁচটি দেশে বাংলাদেশের মিশন রয়েছে। এগুলো হলো— মরক্কো, লিবিয়া, মিসর, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ডেস্কের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হাই বলেন, আফ্রিকায় বাণিজ্যিক স্বার্থে মিশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ২০১১সালের শুরুতে পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েসের নেতৃত্বে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন আফ্রিকায় সফর করে। এ সফরে বিনিয়োগ সুবিধা কাজে লাগাতে মিশন স্থাপনে গুরুত্ব দেয়া হয়। তিনি বলেন, এ বিষয়কে সামনে রেখে শিগগিরই আফ্রিকায় আরও পাঁচটি দেশে মিশন স্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।সূত্র, বণিক বার্তার।
বাংলাদেশ-আফ্রিকা বিজনেস অর্গানাইজেশন - BABO
বাংলাদেশ-আফ্রিকা বিজনেস অর্গানাইজেশন
“বাংলাদেশ-আফ্রিকা বিজনেস
অর্গানাইজেশন” বা
সংক্ষেপে BABO নামে
একটি
নতুন
সংগঠনের সৃষ্টি
হোয়েছে। এ
ধরণের
উদ্যোগ
বাংলাদেশে এটিই
প্রথম।
বিপুল জনগোষ্ঠির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম লক্ষ্য। কেননা গত অর্থবছরে দেশের খাদ্যঘাটতি পূরণের প্রচেষ্টায় এর রয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। ইচ্ছা সত্বেও অনেক চাউল উৎপাদনকারী দেশের পক্ষেই তখন চাউলের যোগান সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
এতদসংক্রান্ত বিষয়ে এক মিটিং এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়দের আফ্রিকা অঞ্চলসমুহে ধান চাষের সম্ভাবনা খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশে উক্ত অঞ্চলসমূহে নিটল-নিলয় গ্রুপ ব্যাপক গবেষণা অনুসন্ধান চালায় এবং আফ্রিকার একটি দেশ উগান্ডা পরিদর্শন করে। সত্যিই আফ্রিকার দেশসমুহে তারা কৃষিক্ষেত্রের এক অপার সম্ভাবনার সন্ধান পাই! তারা বাংলাদেশি জনগণকে কৃষিতে বিনিয়োগের জন্য তাদের দেশে সাদর সম্ভাষণ জানিয়েছে।
এই যাত্রা শুরু করতে আফ্রিকার বিভিন্ন কৃষি প্রকল্পে বিনিয়োগে ইচ্ছুক বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে BABO। শুধু কৃষিতেই নয়, বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করবে - এমন যে কোন বিনিয়োগ-বাণিজ্যেই BABO তার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে। আফ্রিকায় বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, BABO বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করবে।
BABO দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এর সাথেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে। BABO দেশের সকল ব্যবসায়ী সংগঠন কে গুরুত্বপূর্ণ এই “খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ফোরামের” সাথে একযোগে কাজ করার আহ্ববান জানাই। একযোগে কাজ করলে “আফ্রিকা বিনিয়োগ” একটি চুড়ান্ত সফল বিনিয়োগে রূপ লাভ করবে।
BABO এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঃ
BABO একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান যা বাংলাদেশ-আফ্রিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত।
BABO এর কার্যাবলীর মধ্যে রয়েছে -
- বাংলাদেশে নেতৃত্বদানকারী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ মুখপাত্রের নিয়মিত কার্যক্রম
- সদস্যদের নিজ নিজ ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপআলোচনার জন্য অনানুষ্ঠানিক জনসমাবেশ
- আফ্রিকান দেশসমুহে সুপরিচিত ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক আফ্রিকার সরকার ও ব্যবসায়ীদের সাথে সরাসরি পরিচিতিকরণ
- বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশন ও কনস্যুলেট এবং আফ্রিকান দুতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তাকরণ
- ফোরামের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি
- বাংলাদেশ ও আফ্রিকার সরকার কর্তৃক অথবা বেসরকারি বাণিজ্য সংগঠন কর্তৃক পরিচালিত দেশে ও দেশের বাইরে বিনিয়োগ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ
- বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সেমিনার ও কনফারেন্সের আয়োজন করা
BABO এর সদস্যবৃন্দ যে সকল সুবিধাসমুহ ভোগ করবেন --
- প্রথম সারির কর্পোরেশন, ব্যাংক, বিভিন্ন আর্থিক ও সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের সহায়তা
- সম্মানীয় ও ভিআইপি ব্যক্তিবর্গের সংসর্গ লাভ ও মতবিনিময়ের সুযোগ
- ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আলোচনায় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে অংশগ্রহণ
- সরকারি আমলা ও কুটনৈতিক প্রতিনিধিদের সংস্পর্শে আসা
- বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের তথ্যানুসন্ধান
- স্ব স্ব ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রগতি সাধন
বাংলাদেশ এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে খুবই উপকৃত হবে। বাংলাদেশ সরকারকে BABO এই মুহুর্তে অনুরোধ করতে চাই-
১. যত শীঘ্র সম্ভব আফ্রিকায় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রদান
২. দেশে ও বিদেশে কৃষি কাজের জন্য ব্যবসায়িদের উৎসাহিতকরণ
BABO এর এখন দুটি প্রধান উদ্দেশ্য -
১. বাংলাদেশের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
২. বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আফ্রিকা ও এর দেশসমুহে বিনিয়োগের অনুমতি লাভে কাজ করা
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই মহতী উদ্দোগের জন্য BABO কে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বরণ করবে এবং এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে তারা ভবিষ্যতে নিরলসভাবে কাজ ক’রে যাবে।
বিপুল জনগোষ্ঠির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম লক্ষ্য। কেননা গত অর্থবছরে দেশের খাদ্যঘাটতি পূরণের প্রচেষ্টায় এর রয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। ইচ্ছা সত্বেও অনেক চাউল উৎপাদনকারী দেশের পক্ষেই তখন চাউলের যোগান সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
এতদসংক্রান্ত বিষয়ে এক মিটিং এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়দের আফ্রিকা অঞ্চলসমুহে ধান চাষের সম্ভাবনা খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশে উক্ত অঞ্চলসমূহে নিটল-নিলয় গ্রুপ ব্যাপক গবেষণা অনুসন্ধান চালায় এবং আফ্রিকার একটি দেশ উগান্ডা পরিদর্শন করে। সত্যিই আফ্রিকার দেশসমুহে তারা কৃষিক্ষেত্রের এক অপার সম্ভাবনার সন্ধান পাই! তারা বাংলাদেশি জনগণকে কৃষিতে বিনিয়োগের জন্য তাদের দেশে সাদর সম্ভাষণ জানিয়েছে।
এই যাত্রা শুরু করতে আফ্রিকার বিভিন্ন কৃষি প্রকল্পে বিনিয়োগে ইচ্ছুক বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে BABO। শুধু কৃষিতেই নয়, বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করবে - এমন যে কোন বিনিয়োগ-বাণিজ্যেই BABO তার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে। আফ্রিকায় বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, BABO বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করবে।
BABO দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এর সাথেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে। BABO দেশের সকল ব্যবসায়ী সংগঠন কে গুরুত্বপূর্ণ এই “খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ফোরামের” সাথে একযোগে কাজ করার আহ্ববান জানাই। একযোগে কাজ করলে “আফ্রিকা বিনিয়োগ” একটি চুড়ান্ত সফল বিনিয়োগে রূপ লাভ করবে।
BABO এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঃ
BABO একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান যা বাংলাদেশ-আফ্রিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত।
BABO এর কার্যাবলীর মধ্যে রয়েছে -
- বাংলাদেশে নেতৃত্বদানকারী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ মুখপাত্রের নিয়মিত কার্যক্রম
- সদস্যদের নিজ নিজ ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপআলোচনার জন্য অনানুষ্ঠানিক জনসমাবেশ
- আফ্রিকান দেশসমুহে সুপরিচিত ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক আফ্রিকার সরকার ও ব্যবসায়ীদের সাথে সরাসরি পরিচিতিকরণ
- বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশন ও কনস্যুলেট এবং আফ্রিকান দুতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তাকরণ
- ফোরামের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি
- বাংলাদেশ ও আফ্রিকার সরকার কর্তৃক অথবা বেসরকারি বাণিজ্য সংগঠন কর্তৃক পরিচালিত দেশে ও দেশের বাইরে বিনিয়োগ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ
- বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সেমিনার ও কনফারেন্সের আয়োজন করা
BABO এর সদস্যবৃন্দ যে সকল সুবিধাসমুহ ভোগ করবেন --
- প্রথম সারির কর্পোরেশন, ব্যাংক, বিভিন্ন আর্থিক ও সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের সহায়তা
- সম্মানীয় ও ভিআইপি ব্যক্তিবর্গের সংসর্গ লাভ ও মতবিনিময়ের সুযোগ
- ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আলোচনায় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে অংশগ্রহণ
- সরকারি আমলা ও কুটনৈতিক প্রতিনিধিদের সংস্পর্শে আসা
- বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের তথ্যানুসন্ধান
- স্ব স্ব ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রগতি সাধন
বাংলাদেশ এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে খুবই উপকৃত হবে। বাংলাদেশ সরকারকে BABO এই মুহুর্তে অনুরোধ করতে চাই-
১. যত শীঘ্র সম্ভব আফ্রিকায় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রদান
২. দেশে ও বিদেশে কৃষি কাজের জন্য ব্যবসায়িদের উৎসাহিতকরণ
BABO এর এখন দুটি প্রধান উদ্দেশ্য -
১. বাংলাদেশের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
২. বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আফ্রিকা ও এর দেশসমুহে বিনিয়োগের অনুমতি লাভে কাজ করা
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই মহতী উদ্দোগের জন্য BABO কে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বরণ করবে এবং এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে তারা ভবিষ্যতে নিরলসভাবে কাজ ক’রে যাবে।
2011
Subscribe to:
Comments (Atom)