Friday, June 14, 2013

বিদেশে বাংলাদেশী চাষিদের বর্গা চাষের সম্ভাবনা


বিদেশে বাংলাদেশী চাষিদের বর্গা চাষের সম্ভাবনা
কামাল শাহরিয়ার : পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা, লাইবেরিয়া, সেনেগাল, আইভরিকোস্ট এর সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে জাতিগত সংঘাতে বিপন্ন দেশগুলোতে বাংলাদেশের সেনা সদস্যরা কাজ করার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। কৃষি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে বিস্তীর্ণ জমি পতিত পড়ে থাকে বছরের পর বছর। তারা নানা কারণেই এসব জমি আবাদ করতে সমর্থ হচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে আমাদের দেশে যেমন একজন বর্গাচাষি অন্যের জমি চুক্তি নিয়ে চাষাবাদ করতে পারে। তেমনি দেশেও এ ধরনের বর্গাচাষ পদ্ধতি প্রবর্তিত হতে পারে। ইতোমধ্যেই এ ধরনের সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে যেহেতু আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে তাই বাংলাদেশি কৃষকদের ঐ দেশগুলোতে পাঠিয়ে তাদের পতিত জমি চাষের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব ক’দিন আগে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলো বাংলাদেশের কৃষকদের দিয়ে তাদের পতিত জমি আবাদ করানোর ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যেই আমেরিকার কোনো কোনো ফার্ম দক্ষিণ আফ্রিকায় এ ধরনের বর্গা চাষ শুরু করেছে। তবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সরকার বাংলাদেশের নিকট থেকে এ ধরনের সহযোগিতা লাভে অত্যন্ত আগ্রহী। বাংলাদেশ এই সুযোগ গ্রহণে আগ্রহী। সম্প্রতি পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডং মিশন’ গত ২৪ আগষ্ট হতে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আফ্রিকার ৪টি দেশ সফর করেন। এসময় তারা সে দেশের কৃষি খাতে বাংলাদেশি কৃষকদের সহায়তার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ভিত্তিক আলোচনা করেন। এতে দেশগুলো ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। কাজেই আগামীতে বাংলাদেশি কৃষকরা দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে সে দেশের পতিত জমি চাষ করবে এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আগামীতে প্রতিনিধি দল ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার আরো কিছু দেশ সফর করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ইচ্ছে করলেই এসব দেশে বিনিয়োগ করতে পারে। পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাও বেশ উজ্জ্বল। বর্তমানে চীন ও ভারত এসব দেশে ব্যাপক হারে পণ্য রপ্তানি করছে। বাংলাদেশ ইচ্ছে করলেই এসব দেশে পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নিতে পারে। অর্থাৎ আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সেনা সদস্যরা আফ্রিকার অনেক দেশেই শান্তি মিশনে কাজ করছে। এ ছাড়া ব্র্যাকের উদ্যোগে আফ্রিকার কোনো কোনো দেশে সামাজিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এসব কার্যক্রম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে। সংঘাতে বিপর্যস্ত এসব দেশ বাংলাদেশের সেনা সদস্যদের অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। এক সময় এসব দেশের সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের নামটিও জানতো না। আজ আর সে অবস্থা নেই। এখন কোনো কোনো দেশে বাংলাকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন স্থানের নাম বাংলাদেশের নামে নামকরণ করা হচ্ছে। এসবই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতি তাদের ভালবাসার বহি:প্রকাশ। দেশগুলোর জনগণ আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে অত্যন্ত আগ্রহী।
বিশেষ করে বাংলাদেশের চাষিদের আফ্রিকায় বিভিন্ন দেশে জমি বর্গা চাষের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে। আফ্রিকার দেশগুলো খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। তারা চাষাবাদের ক্ষেত্রে তেমন একটা অভিজ্ঞ নয়। অন্য দিকে বাংলাদেশের কৃষকদের যে কোনো ধরনের জমি চাষের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করা যেতে পারে। বাংলাদেশের কৃষকদের জমি চাষের অভিজ্ঞতা আফ্রিকার কৃষকদের জন্য বিস্ময়ের ব্যাপার। বাংলাদেশের কৃষকদের বর্গচাষের অভিজ্ঞতাও বিস্ময়কর। আমাদের এখানে মোট আবাদি জমির প্রায় ৪০ শতাংশই বর্গাচাষিদের দ্বারা চাষ করানো হয়। বর্গা চাষিদের রয়েছে নানা সমস্যা। সবচেয়ে অমানবিক ব্যাপার হচ্ছে বর্গা চাষিরা জমি আবাদকালীন সমস্ত ব্যয়ভার বহন করে। কোথাও কোথাও জমির মালিক শুধু মালিকানা সূত্রে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক পেয়ে থাকে। তাদের কোনো দায়িত্ব বহন করতে হয় না। এতে বর্গা চাষিদের উপর অত্যন্ত চাপ পড়ে। বিভিন্ন সময় আমাদের দেশে তে-ভাগা আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তে-ভাগা আন্দোলনের মূল কথাই হচ্ছে বর্গা চাষি যদি জমির উৎপাদন ব্যয়ের পুরোটাই বহন করে তাহলে ফসল তিন ভাগ হবে। এর মধ্যে দুই ভাগ পাবে বর্গাচাষি। এবং এক ভাগ পাবেন জমির মালিক। অথবা উৎপাদন ব্যয়ের অর্ধেক মালিককে বহন করতে হবে এবং ফসল দুই ভাগ হবে। এটা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বর্গা চাষিদের কৃষি ঋণের আওতায় নিয়ে এসেছে। এটা একটি চমৎকার উদ্যোগ। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে কোনো বর্গা চাষ

No comments:

Post a Comment